
ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা উপজেলায় শহীদ, যুদ্ধাহত, সাধারণ ও সেনা মিলিয়ে মোট বীর মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ৪৬৫ জন। সরকারের মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আবাসন নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় অসচ্ছল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ঘর নির্মাণের প্রকল্প হাতে নিয়েছেন। এদের মধ্যে অনেকেই অবহেলিত অবস্থায় ঝুপড়িঘরে বসবাস করছেন। এমনই এক মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্ধান মিললো মুক্তাগাছা উপজেলার মানকোন ইউনিয়নের রায়থোরা গ্রামে। রায়থোরা গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মৃত রমজান আলী তরুণ বয়সে দেশমাতৃকার টানে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। যুদ্ধের পর অভাব অনটনে দিনমজুরের কাজ করে সংসার চালিয়েছেন। ২০১২ সালে বীর মুক্তিযোদ্ধা রমজান আলী মারা যান। তার স্ত্রী হাতেমন বেওয়ার ৪ ছেলে, ৪ মেয়ে।
বাড়ি-ভিটার মাত্র ৩ শতাংশ জমি রেখে যান। মেয়েদের বিয়ে হয়েছে, তারা যার যার স্বামীর সংসারে আছেন। ছেলেরা দিনমজুরের কাজ করে অন্যের বাড়িতে বসবাস করে দিনাতিপাত করছেন। স্ত্রী হাতেমন বেওয়া (৭০) স্বামীর ভিটায় পলিথিনের ছাউনি আর ছনের বেড়ার তৈরি ঝুপড়িঘরে অতি কষ্টে জীবনযাপন করছেন।
সরজমিন গিয়ে দেখা যায়, ভগ্ন ঝুপড়িঘরটি একদিকে হেলে আছে। ঘরের ভেতরে একটি ভাঙা চৌকিতে তিনি রাতে ঘুমান। শীতবস্ত্র নেই। ছেড়া কাঁথায় ঘুমান। হাতেমন বেওয়া জানান, আমার স্বামী দেশের জন্য যুদ্ধ করেছে। অনেকেই অনেক কিছু পেয়েছে। আমার কপালে কিছুই জোটে না। ঘরের জন্য দরখাস্ত দিছি- কপালে ঘর জোটেনি। যাদের সম্পদ আছে, ঘর আছে তাদেরকেই আবার দিচ্ছে। সরকার যদি একটা ঘর দিতো তাহলে ছেলেদের নিয়ে থাকতাম।
উল্লেখ, মুক্তাগাছা উপজেলায় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আবাসন নির্মাণ প্রকল্পে ২য় পর্যায়ে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৪৮ জন মুক্তিযোদ্ধার আবাসন নির্মাণের জন্য চূড়ান্ত তালিকা করে জেলা প্রশাসক বরাবর পাঠানো হয়। কিন্তু এখানে হতদরিদ্র এই মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের নাম নেই। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল্লাহ আল মনসুরের সাথে কথা হলে তিনি জানান, মুক্তিযোদ্ধাদের নির্ধারিত ফরমে যারা আবেদন করেছে তাদের মধ্য থেকে যাচাই-বাছাই করে চূড়ান্ত তালিকা প্রণয়ন করে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর আপিল করার সুযোগ রয়েছে।
যে কেউ আপিল করতে পারেন। হাতেমন বেওয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি জানান, নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে হবে। আবেদন ছাড়া ঘর দেয়ার কোনো সুযোগ নেই। তাছাড়া সকল মুক্তিযোদ্ধাই ঘর পাবেন। তা পর্যায়ক্রমে হবে।
