ঢাকা
২৭ জুন ২০২৬

জনগণের আস্থা অর্জনই টিকে থাকার মূল শক্তি

বাংলাদেশ মিডিয়া ডেস্ক
শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬   ২৪৫ বার পঠিত
জনগণের আস্থা অর্জনই টিকে থাকার মূল শক্তি

বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সরকার পরিচালনা, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা—সবকিছুই এখন বড় পরীক্ষার নাম| এমন বাস্তবতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যেভাবে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করে দ্রুত প্রশাসনিক কার্যক্রমকে গতিশীল করেছেন, তা রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে| দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি মন্ত্রিসভার সদস্যদের সমন্বয়ে দেশ পরিচালনায় যে সক্রিয়তা দেখিয়েছেন, তা অনেকের কাছেই আশাব্যঞ্জক বলে প্রতীয়মান হচ্ছে|

দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সরকার পরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি সাধারণ মানুষকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছিল| প্রতিদিন কোথাও না কোথাও মব সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দখলবাজি কিংবা ছিনতাইয়ের ঘটনা জাতীয় উদ্বেগে পরিণত হচ্ছিল| ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সাধারণ পথচারী পর্যন্ত কেউ নিরাপদ বোধ করছিল না| কিন্তু বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও সক্রিয় ও জবাবদিহিমূলক ভূমিকায় দেখা যাচ্ছে| বিশেষ করে ছিনতাই, মাদক ও সংঘবদ্ধ অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির বাস্তব প্রয়োগ সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়েছে|

বর্তমানে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হচ্ছে| প্রায় প্রতিদিনই ছিনতাইকারী ও অপরাধচক্রের সদস্যরা আটক হচ্ছে| আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যমতে, এসব অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা অনেকেই মাদকাসক্ত কিংবা অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত| ফলে মাদক ও অনলাইন জুয়া নিয়ন্ত্রণ করা গেলে অপরাধ প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে—এমন বিশ্বাস এখন সমাজের বড় একটি অংশের মধ্যেই রয়েছে|

বাংলাদেশ একটি সম্ভাবনাময় রাষ্ট্র| নদীমাতৃক এ দেশের অর্থনীতির প্রধান ভিত্তি কৃষি হলেও গ্যাস, কয়লা, পাথরসহ নানা ধরনের খনিজ সম্পদেও দেশ সমৃদ্ধ| অথচ নানা অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি এবং রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে সাধারণ মানুষ এখনও মূল্যস্ফীতির চাপে দিশেহারা| নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে উঠেছে| তাই উন্নয়নের পাশাপাশি জনগণের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বাজার ব্যবস্থাপনায় কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি|

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের উন্নয়ন, প্রশাসনিক সংস্কার ও জনগণমুখী রাষ্ট্র গঠনের যে পরিকল্পনার কথা বলছেন, তা বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ উন্নয়নের নতুন ধাপে প্রবেশ করতে পারে| বিশেষ করে তরুণ সমাজের কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, প্রযুক্তিনির্ভর প্রশাসন এবং দুর্নীতি দমনে দৃশ্যমান পদক্ষেপ সরকারের জনপ্রিয়তা আরও বাড়াতে পারে|

রাজনীতিতে জনপ্রিয়তার বড় মাপকাঠি হলো জনগণের সঙ্গে সংযোগ| বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে বিভিন্ন সময় প্রচলিত অতিরিক্ত ভিআইপি প্রটোকল ভেঙে সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশতে দেখা যাচ্ছে| ট্রাফিক আইন মেনে চলা, সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি কুশল বিনিময় এবং মাঠপর্যায়ে সক্রিয় উপস্থিতি—এসব বিষয় অনেকের নজর কেড়েছে| বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এমন দৃশ্য অতীতে খুব বেশি দেখা যায়নি বলেই সাধারণ মানুষ তা ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করছে|

তবে একটি বিষয় মনে রাখতে হবে—রাষ্ট্রের প্রকৃত মালিক জনগণ| জনগণ যাকে চায়, শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রক্ষমতায় তারাই টিকে থাকে| রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র, দেশি-বিদেশি চাপ কিংবা সাময়িক সংকট কোনো সরকারকে দুর্বল করতে পারলেও জনগণের আস্থা থাকলে সেই সরকারকে সহজে সরিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়| ইতিহাস তাই বলে|

দেশের সব মানুষ রাজনীতি করে না; কিন্তু দেশের উন্নয়ন, নিরাপত্তা এবং স্থিতিশীলতার প্রশ্নে সবাই সচেতন| মানুষ শেষ পর্যন্ত সেই শক্তির পক্ষেই অবস্থান নেয়, যারা জনগণের কল্যাণে কাজ করে| তাই ক্ষমতায় থাকা রাজনৈতিক নেতৃত্বের উচিত ব্যক্তি স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া|

বাংলাদেশের সামনে এখনো বহু চ্যালেঞ্জ রয়েছে—মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব, দুর্নীতি, বৈদেশিক চাপ ও রাজনৈতিক বিভাজন| কিন্তু সঠিক নেতৃত্ব, কার্যকর প্রশাসন এবং জনগণের আস্থা থাকলে এ দেশকে এগিয়ে নেওয়া অসম্ভব নয়| জনগণ উন্নয়ন চায়, নিরাপত্তা চায়, স্থিতিশীলতা চায়| যে সরকার এসব নিশ্চিত করতে পারবে, শেষ পর্যন্ত জনগণ তার পক্ষেই রায় দেবে—এটাই গণতন্ত্রের বাস্তবতা|

Facebook Comments Box
আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa