সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য প্রস্তাবিত নতুন বেতন কাঠামোতে মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। তবে সব গ্রেডে সমান হারে বেতন বৃদ্ধি হবে না; নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীরা তুলনামূলক বেশি সুবিধা পেতে পারেন।
সোমবার (৬ জুলাই) জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫-এর সুপারিশ প্রণয়ন কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, যাতায়াত ভাতা, অবসর সুবিধা ও পেনশন কাঠামো নিয়েও আলোচনা করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নতুন কাঠামোতে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির হার ৯০ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। অন্যদিকে প্রথম থেকে নবম গ্রেডের কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে এ হার ৬০ থেকে ৭০ শতাংশের মধ্যে থাকতে পারে। এছাড়া কয়েকটি ভাতা একীভূত করা এবং বর্তমান বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন সুবিধা যুক্ত করার বিষয়ও বিবেচনায় রয়েছে।
কমিটির সুপারিশ চূড়ান্ত করতে আগামী সপ্তাহে আরও একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। পরে সুপারিশ মন্ত্রিসভার অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে। অনুমোদনের পর গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হবে।
আন্তঃমন্ত্রণালয় কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশনের সমন্বয়ক নজরুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন পর নতুন পে-স্কেল নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। তবে শুধু বেতন বৃদ্ধি নয়, মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ভাতা, পেনশন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধারও বাস্তবসম্মত সংস্কার প্রয়োজন।
সাবেক অর্থসচিব মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী বলেন, নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণে দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও বাজার পরিস্থিতি সমান গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।
উল্লেখ্য, সর্বশেষ ২০১৫ সালে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য জাতীয় বেতন স্কেল ঘোষণা করা হয়। এরপর বার্ষিক ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট চালু থাকলেও নতুন কোনো পে-স্কেল কার্যকর হয়নি। ২০২৫ সালে গঠিত জাতীয় বেতন কমিশন এর আগে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছিল। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার জন্য প্রায় ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা এবং পেনশন ও গ্র্যাচুইটিসহ মোট প্রায় ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।