
করোনাভাইরাসের মতো বৈশ্বিক মহামারির আতঙ্ক কেটে গেলেও চট্টগ্রামে এখন নতুন উদ্বেগ হয়ে দাঁড়িয়েছে পুরনো রোগ ‘হাম’। দিন দিন বাড়ছে এর প্রকোপ ও শিশু মৃত্যুর ঘটনা। অথচ রোগটি পরিচিত হওয়ায় এটি নিয়ে সাধারণ মানুষ ও প্রশাসনের মাঝে অবহেলা ও ভীতি দুই-ই কম বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত আইসোলেশন সেন্টার ও হাম কর্নার খোলার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, করোনা ছিল সম্পূর্ণ নতুন এবং বৈশ্বিক মহামারি, যা পুরো পৃথিবীতে আতঙ্ক ছড়িয়েছিল। কিন্তু হাম পুরনো, পরিচিত ও চেনা রোগ এবং এটি কেবল দেশীয় পর্যায়েই দেখা যাচ্ছে। এ কারণেই হয়তো এটি নিয়ে হৈচৈ বা ভীতি কম। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, ইতিমধ্যে এই রোগে বেশ কিছু ক্ষতি হয়ে গেছে এবং বর্তমানে এর প্রকোপ ও শিশু মৃত্যু দুটোই বাড়ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার, স্বাস্থ্য বিভাগ এবং স্থানীয় উদ্যোগে জরুরি ভিত্তিতে আইসোলেশন সেন্টার ও বিশেষ হাম কর্নার স্থাপন করা এখন সময়ের দাবি।
”করোনা নিয়ে সবার মাঝে একটা আতঙ্ক ছিল কারণ সেটা নতুন ছিল। কিন্তু হাম চেনা রোগ বলে এটা নিয়ে ভীতি কম। তবে যেহেতু এখন প্রকোপ ও শিশু মৃত্যু বাড়ছে, তাই দ্রুত আইসোলেশন সেন্টার খোলা জরুরি। যদিও ইতিমধ্যে অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে।”
— সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ
এদিকে চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টার তথ্য অনুযায়ী, জেলায় হামের প্রকোপ প্রতিনিয়ত বাড়ছে। গত এক দিনে নতুন করে হাম সন্দেহে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ৩১ জন।
এক নজরে চট্টগ্রামের হাম পরিস্থিতি:
মোট চিকিৎসাধীন ও আক্রান্ত রোগী: ১,৮৪৪ জন (সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল মিলিয়ে)
ল্যাবে নিশ্চিত হাম শনাক্ত: ১৫৬ জন (সরকারি ল্যাবের পরীক্ষা অনুযায়ী)
সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন: ১,৫৯০ জন
চিকিৎসকদের মতে, হামের সংক্রমণ দ্রুত ছড়ায়। তাই আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত সাধারণ রোগী থেকে আলাদা করে চিকিৎসা না দিলে পরিস্থিতি আরও নাজুক হতে পারে। দ্রুত সরকারি ও স্থানীয় পর্যায়ে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই ক্ষতি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
