
চট্টগ্রামে টানা ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার লক্ষ্যে ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় শুক্রবার (১১ জুলাই) থেকে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করেছে সেনাবাহিনী।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের জরুরি অনুরোধে সেনাবাহিনীর ১০ ও ২৪ পদাতিক ডিভিশনের সদস্যরা জেলার বিভিন্ন বন্যাকবলিত উপজেলায় অনুসন্ধান, উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে লোহাগাড়া, সাতকানিয়া, চন্দনাইশ ও বাঁশখালী উপজেলা ব্যাপকভাবে প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকায় প্রায় চার লাখ মানুষ পানিবন্দী হয়ে মানবিক সংকটে পড়েছেন। এ পরিস্থিতিতে ১০ পদাতিক ডিভিশন দুর্গত এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে উদ্ধারকারী দল ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম মোতায়েন করেছে।
এদিকে মৌসুমি ভারী বৃষ্টিপাতে বোয়ালখালী, হাটহাজারী ও ফটিকছড়ি উপজেলাতেও ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। এসব এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ২৪ পদাতিক ডিভিশনের সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে সেনাসদস্যরা নিরলসভাবে কাজ করছেন। পাশাপাশি উদ্ধার অভিযান ও ত্রাণ কার্যক্রম আরও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে দুর্গত এলাকায় তিনটি অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করেছে ২৪ পদাতিক ডিভিশন।
আইএসপিআর জানায়, যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে বেসামরিক প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে সাধারণ মানুষের জানমাল রক্ষায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বদ্ধপরিকর। দুর্গত এলাকার মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সেনাবাহিনীর উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
