
চট্টগ্রাম নগরীতে অস্বাস্থ্যকর ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাবার তৈরি এবং বাসি-মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রির দায়ে জনপ্রিয় রেস্তোরাঁ চেইন ‘কাচ্চি ডাইন’সহ চারটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
মঙ্গলবার (১৯ মে) নগরীর আগ্রাবাদ ও মোহরা এলাকায় পৃথক বাজার তদারকি অভিযান চালিয়ে এই জরিমানা আদায় করা হয়।
ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, নগরীর অভিজাত এলাকা আগ্রাবাদে অভিযান চালানোর সময় নামিদামি রেস্তোরাঁগুলোর ভেতরে চরম অব্যবস্থাপনা ও নোংরা পরিবেশ দেখতে পান কর্মকর্তারা।
কাচ্চি ডাইন: রান্নাঘর ও খাবার সংরক্ষণের জায়গায় চরম অপরিচ্ছন্নতার দায়ে এই জনপ্রিয় কাচ্চি ব্র্যান্ডটিকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
লেমন গ্রাস রেস্টুরেন্ট: সম্পূর্ণ অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে খাদ্য উৎপাদনের অপরাধে এই প্রতিষ্ঠানটিকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
মিষ্টির গায়ে নতুন স্টিকার, ফ্রিজে বাসি মোগলাই এদিকে নগরীর মোহরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ভিন্নধর্মী জালিয়াতির প্রমাণ পায় অধিদপ্তর।
মিষ্টান্ন দোকান: মোহরা এলাকার একটি মিষ্টির দোকানে মেয়াদ পার হয়ে যাওয়া পণ্যের গা থেকে পুরোনো স্টিকার তুলে ফেলে নতুন করে বিক্রির চেষ্টা চলছিল। হাতেনাতে এই প্রমাণ পাওয়ায় দোকানটিকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
মোহরা হোটেল: এই হোটেলে তল্লাশি চালিয়ে ডিপ ফ্রিজে রাখা বাসি বার্গার ও মোগলাই পরোটা উদ্ধার করা হয়, যা ক্রেতাদের কাছে তাজা বলে বিক্রি করা হচ্ছিল। এছাড়া মেয়াদোত্তীর্ণ দই রাখা ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশের জন্য হোটেলটিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযান পরিচালনাকারী দলের নেতৃত্বে ছিলেন জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ফয়েজ উল্যাহ। তাঁর সাথে ছিলেন সহকারী পরিচালক মো. আনিছুর রহমান, মাহমুদা আক্তার ও রানা দেবনাথ। কর্মকর্তারা জানান, সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে এবং খাদ্যের মান বজায় রাখতে জনস্বার্থে এই ধরনের ঝটিকা অভিযান ও বাজার তদারকি কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
