উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশসহ ২৯টি দেশের নাগরিককে রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে নিয়োগ এবং ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর ঘটনায় প্রতারণা, জবরদস্তি ও মানবপাচারের প্রমাণ পেয়েছে জাতিসংঘের স্বাধীন তদন্ত কমিশন। এসব বিদেশিকে বেসামরিক পেশায় কাজের প্রতিশ্রুতি দিয়ে রাশিয়ায় নেওয়ার পর সামরিক চুক্তিতে সই করতে বাধ্য করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

তদন্ত কমিশন এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার ৪৮টি দেশের নাগরিকদের নিয়োগপ্রক্রিয়া পর্যালোচনা করে। এর মধ্যে ২৯টি দেশের নাগরিকের ক্ষেত্রে প্রতারণা, জবরদস্তি ও মানবপাচারের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এসব দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তান রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, নিয়োগকারী সংস্থা ও স্থানীয় দালালদের মাধ্যমে নিরাপত্তাকর্মী, গাড়িচালক, মেকানিক, নির্মাণশ্রমিকসহ বিভিন্ন পেশায় আকর্ষণীয় বেতনের চাকরির প্রস্তাব দেওয়া হতো। বিদেশে যেতে জনপ্রতি ৪০০ থেকে ৮ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত নেওয়ার ঘটনাও উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে গাইবান্ধার ২৭ বছর বয়সী রিমেল মিয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছে। উন্নত জীবনের আশায় রাশিয়ায় গিয়ে চাকরি পেতে তিনি ঢাকার একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্রকে ধারদেনা করে ছয় লাখ টাকা দেন। পরে তায়মেন শহরের একটি গ্যাস কোম্পানিতে কাজ পেলেও ছয় মাস পর তাঁকে চাকরি ছাড়তে হয়।

এরপর উফা শহরে নিরাপত্তাকর্মীর চাকরির বিজ্ঞাপন দেখে যোগাযোগ করেন রিমেল। বিজ্ঞাপনে মাসে দুই লাখ টাকা বেতন এবং এককালীন ২০ লাখ রুশ রুবল দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ছিল। কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, নিরাপত্তাকর্মীর চাকরির কথা বলে তাঁকে রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে বাধ্য করা হয়। পরে ইউক্রেনীয় বাহিনীর হাতে আটক হন তিনি। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে যুদ্ধবন্দি হিসেবে রয়েছেন রিমেল। তাঁর মতো আরও অন্তত দুই বাংলাদেশি ইউক্রেনে যুদ্ধবন্দি রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সামরিক চুক্তিতে সইয়ের পর কাউকে মাত্র ২০ মিনিট, আবার কাউকে সর্বোচ্চ এক মাসের প্রশিক্ষণ দিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তাঁদের দিয়ে সম্মুখযুদ্ধে অংশ নেওয়া, পরিখা খনন, খাবার ও পানি সরবরাহ এবং নিহত সেনাদের মরদেহ সংগ্রহের মতো ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করানো হতো। প্রতিশ্রুত বেতন ও বোনাস না পাওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

প্রতিবেদনে ৩০ জনের একটি দলের উদাহরণ দিয়ে বলা হয়েছে, ওই দলের ১৭ জন সম্মুখযুদ্ধে নিহত হন, পাঁচজন নিখোঁজ হন এবং মাত্র একজন আহত অবস্থায় ফিরে আসতে সক্ষম হন।