দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে নভেম্বরে পর্যটকদের রাতযাপনের বাধা দূর হয়েছে। সংশোধিত নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ১ নভেম্বর থেকে ২০২৭ সালের ১৫ মার্চ পর্যন্ত দ্বীপটিতে পর্যটক যাতায়াত করতে পারবেন। এ সময়ে রাতযাপনের ক্ষেত্রেও কোনো নিষেধাজ্ঞা থাকছে না।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে সংশোধিত নির্দেশনা জারি করেছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতিদিন গড়ে সর্বোচ্চ সাড়ে তিন হাজার পর্যটক সেন্টমার্টিন ভ্রমণের সুযোগ পাবেন।

এর আগে গত ২৫ অক্টোবর জারি করা নির্দেশনায় পর্যটক যাতায়াতের অনুমতি দেওয়া হলেও নভেম্বরে একই দিনে দ্বীপে গিয়ে ফিরে আসার পুরোনো বিধান বহাল ছিল। ফলে রাতযাপনের সুযোগ নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। নতুন নির্দেশনায় আগের প্রজ্ঞাপনের সংশ্লিষ্ট কয়েকটি অনুচ্ছেদ সংশোধন করে এ জটিলতার অবসান ঘটানো হয়েছে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কক্সবাজারের নুনিয়ারছড়া ঘাট থেকে অনুমোদিত পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল করবে। পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সেন্টমার্টিনে নৌযান চলাচলের অনুমতি দিতে পারবে না। পর্যটকদের বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের স্বীকৃত ওয়েব পোর্টাল থেকে টিকিট কিনতে হবে। টিকিটে ট্রাভেল পাস ও কিউআর কোড থাকা বাধ্যতামূলক।

তবে পর্যটকদের দ্বীপের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় নির্ধারিত বিধিনিষেধ মানতে হবে। রাতে সৈকত ও আশপাশের এলাকায় আলো জ্বালানো, উচ্চ শব্দ সৃষ্টি এবং বারবিকিউ পার্টি করা যাবে না। কেয়াবনে প্রবেশ, কেয়া ফল সংগ্রহ ও কেনাবেচাও নিষিদ্ধ থাকবে।

এ ছাড়া সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবাল, শামুক, ঝিনুকসহ দ্বীপের জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করা যাবে না। সৈকতে মোটরসাইকেল ও সি-বাইক চালানো নিষিদ্ধ থাকবে। নিষিদ্ধ পলিথিন বহন না করার পাশাপাশি একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ব্যবহার এড়িয়ে চলতে পর্যটকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

দ্বীপের পরিবেশ সংরক্ষণ, পর্যটকদের নিরাপত্তা এবং যাতায়াত ব্যবস্থাপনার বিষয় বিবেচনায় নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, পরিবেশ অধিদপ্তর, কক্সবাজার জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও ট্যুরিস্ট পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।