
পাহাড়ের আঁকাবাঁকা পথ, কোথাও চাঁদের গাড়ি আবার কোথাও মোটরসাইকেলেই ভরসা। নিকটবর্তী বাজার থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরের পথ পাড়ি দিয়ে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে খাগড়াছড়ির দুর্গম এলাকার কিছু বিদ্যালয়। ভৌগোলিক প্রতিকূলতা ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতাকে তোয়াক্কা না করে চলতে থাকা এসব বিদ্যাপীঠের শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছে সামাজিক সংগঠন ‘এলিভেটিং সোসাইটি ফর স্কিল ডেভেলপমেন্ট’ (ESSD)।
গত ২৬ থেকে ২৮ জুলাই খাগড়াছড়ি সদর, মাটিরাঙ্গা ও পানছড়ি উপজেলার দুর্গম এলাকার ৭টি বিদ্যালয় ও শিক্ষা কেন্দ্রের ৩৯৭ জন সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে চক ও স্লেটসহ প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ। ‘ডিবিএল সিরামিকস লিমিটেড’-এর করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (CSR) তহবিলের সহায়তায় এ কর্মসূচি পরিচালিত হয়।
যেসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা পেল সহায়তার ছোঁয়া
খাগড়াছড়ি সদর: উত্তর গঞ্জপাড়া নন-গভর্নমেন্ট প্রাথমিক স্কুলের ৮৩ জন ও রবিধন পাড়া নন-গভর্নমেন্ট প্রাথমিক স্কুলের ৭৩ জন শিক্ষার্থী।
মাটিরাঙ্গা উপজেলা: দলদলি আশা অফনং নন-গভর্নমেন্ট প্রাথমিক স্কুলের ৯২ জন এবং আদর্শগ্রাম আনোয়ার বেগম তা’লিমুল কোরআন মাদ্রাসার ৯৯ জন শিক্ষার্থী।
পানছড়ি উপজেলা: পূর্ব ডমডমপাড়া কেন্দ্র, ডমডমপাড়া কেন্দ্র ও সাঁওতালপাড়া কেন্দ্রের শিক্ষার্থীরা।
পাহাড়ি এলাকায় শিক্ষা ও জীবনের কঠিন বাস্তবতা
উপকরণ বিতরণকালে মাঠপর্যায়ে গিয়ে দুর্গম পাহাড়ের বাস্তব চিত্র স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করেন ESSD-এর পরিচালক (ম্যানেজমেন্ট, প্রোগ্রামস ও ফাইন্যান্স) শাদমান বিন সামাদ এবং প্রোগ্রাম ম্যানেজার ফারহান।
তারা জানান, পাহাড়ে শিক্ষার সুযোগ বজায় রাখা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। শুধু যাতায়াতই নয়, এসব অঞ্চলের পরিবারগুলোর জন্য বিশুদ্ধ পানির সংকটও বড় একটি সমস্যা। খাবার পানির জন্য পাহাড়ি পরিবারগুলোকে প্রতিদিন ৭ থেকে ১০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হয়। বর্ষা মৌসুমে পাহাড় ধস ও সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় যাতায়াত ব্যবস্থা আরও দুষ্কর হয়ে ওঠে।
ESSD কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে, পাহাড়ের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষার পথ সুগম করতে এবং কমিউনিটি উন্নয়নে ভবিষ্যতে এ ধরনের টেকসই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে এই শিশুদের শিক্ষা জীবনে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
