লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার শাহীনুর বেগম (৩৮) ও তাঁর তিন মেয়ের মরদেহ কুমিল্লার হোমনা উপজেলার লটিয়া গ্রামে পৌঁছালে স্বজন ও এলাকাবাসীর কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।
শুক্রবার (২৭ জুন) রাত সাড়ে ৯টার দিকে মরদেহগুলো গ্রামে পৌঁছায়। পরে জানাজা শেষে শাহীনুর বেগমের প্রয়াত স্বামী মো. কামালের বাড়ির পাশে তাদের দাফন করা হয়। জানাজা পরিচালনা করেন মুফতি সামসুল হক আরিফী।
জানাজায় হোমনা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান মোল্লা, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি কাজী মো. ইব্রাহিমসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
এদিকে এই হত্যাকাণ্ডে পরিবারের একমাত্র জীবিত সন্তান মো. সিফাত এখন একা হয়ে পড়েছে। ঘটনার সময় সে বাসার বাইরে থাকায় প্রাণে বেঁচে যায়। এসএসসি পরীক্ষার্থী সিফাত নিজেই ঢাকা ও লক্ষ্মীপুর থেকে মা ও তিন বোনের মরদেহ হোমনায় নিয়ে আসে। স্বজনদের মতে, প্রিয়জনদের হারিয়ে সে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান মোল্লা বলেন, এমন মর্মান্তিক ঘটনার মুখোমুখি এলাকাবাসী আগে কখনো হয়নি। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিচারের দাবি জানান।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌরসভার ধানহাটা নদীর পাড় সড়কের একটি পাঁচতলা ভবনের নিচতলার বাসায় ঢুকে শাহীনুর বেগম, তাঁর মেয়ে সায়মা আক্তার (২১), নাফিসা আক্তার ইকরা (১৭) ও ফাতেমা আক্তার শিফাকে (১০) কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, নিহতদের চিৎকার শুনে এক নারী জানালা দিয়ে বাসার ভেতরে একজনকে দেখতে পেয়ে বাইরে থেকে গেট বন্ধ করে দেন। পরে লোকজন এসে ঘরে ঢুকে চারজনকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পান।
এ সময় বাসায় থাকা অন্তর মজুমদার নামের এক ফল ব্যবসায়ী ছাদ দিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে স্থানীয়রা তাকে আটক করে গণপিটুনি দেন। পরে তারও মৃত্যু হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, অন্তর আগে ওই ভবনের একটি ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকতেন। নিহত শাহীনুর বেগমের কাছে ভাড়ার টাকা ও স্বর্ণালংকার থাকার বিষয়টি তিনি জানতেন বলে স্বজনদের ধারণা। তাদের অভিযোগ, লুটের উদ্দেশ্যেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হতে পারে।
নিহতের ভাই ছানা উল্লাহ ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত থাকলে তাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।