চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পটিয়া উপজেলার আনসার ক্যাম্প এলাকায় যাত্রীবাহী বাস ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই কিশোর নিহত হয়েছে। আজ শনিবার (২৩ মে) দুপুর পৌনে ১টার দিকে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আরও এক তরুণ গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নিহতরা হলো—পটিয়ার কচুয়াই ইউনিয়নের শেখ মোহাম্মদ পাড়ার আখতার হোসেনের ছেলে মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন (১৫) এবং একই এলাকার জাহেদুল ইসলামের ছেলে মোহাম্মদ তাসনিম (১৫)। তারা দুজনই স্থানীয় বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। শাহাদাত চক্রশালা কৃষি উচ্চবিদ্যালয় এবং তাসনিম আব্দুস সোবাহান রাহাত আলী উচ্চবিদ্যালয়ে পড়াশোনা করত।
এই দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত তানভির হোসেন (১৮) নামে অপর এক তরুণকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে একটি মোটরসাইকেলে করে ওই তিন তরুণ স্থানীয় একটি পশুর হাটে গরু দেখতে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে মোটরসাইকেলটি চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের আনসার ক্যাম্প এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগামী বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় মোটরসাইকেল আরোহী তিন কিশোরই সড়কে ছিটকে পড়ে মাথায় প্রচণ্ড আঘাত পায়। এতে ঘটনাস্থলেই শাহাদাত হোসেনের মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় বাকি দুজনকে উদ্ধার করে দ্রুত পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাসনিমকে মৃত ঘোষণা করেন।
কচুয়াই ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি ও প্রত্যক্ষদর্শী মোহাম্মদ ইসহাক জানান, দুর্ঘটনার পরপরই ঘাতক বাসটি নিয়ে চালক পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তবে স্থানীয় জনতা ধাওয়া দিয়ে বাসটি হাতেনাতে আটক করে এবং পরে পুলিশে সোপর্দ করে।
পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক সুচিতা দেব জানান, “হাসপাতালে আনা তিনজনেরই মাথায় গুরুতর জখম ছিল। তাসনিম নামের কিশোরটিকে আমরা মৃত অবস্থায় পেয়েছি। আর আহত তানভিরের অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে দ্রুত চমেক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।”
পটিয়া হাইওয়ে পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মোস্তাফিজুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। নিহত দুই কিশোরের মরদেহ বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা আছে। এই ঘটনায় চালকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।”
এদিকে, দুই স্কুলছাত্রের এমন অকাল ও নির্মম মৃত্যুতে কচুয়াই ইউনিয়নের শেখ মোহাম্মদ পাড়া এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে হাসপাতাল প্রাঙ্গণ।
Development by: webnewsdesign.com