দেশের চামড়া শিল্পের হারানো গৌরব ও ঐতিহ্য কি ফিরে আসবে? এই প্রশ্নের ইতিবাচক উত্তর দিচ্ছে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বিসিক শিল্পাঞ্চলে অবস্থিত একমাত্র সচল ট্যানারি ‘রিফ লেদার’। যখন চট্টগ্রামের একের পর এক ট্যানারি বন্ধ হয়ে এই শিল্প ধ্বংসের মুখে, তখন টিকে গ্রুপের সহযোগী এই প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বমানের সনদ নিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে লাল-সবুজ পতাকার প্রতিনিধিত্ব করছে।
১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত রিফ লেদার বর্তমানে পরিবেশবান্ধব চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ‘লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপ’ (LWG) সনদপ্রাপ্ত। এই একটি সনদই বদলে দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটির রপ্তানি ভাগ্য। রিফ লেদারের পরিচালক মোখলেসুর রহমান জানান, ইউরোপ ও আমেরিকার বড় ব্র্যান্ডগুলো এলডব্লিউজি সনদ ছাড়া কোনো চামড়াপণ্য গ্রহণ করে না।
তিনি বলেন, “আমাদের এই সনদ থাকায় বিশ্বের নামকরা ব্র্যান্ডগুলোর ক্রেতা আমাদের সাথে কাজ করছে। এর ফলে আমরা আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক দাম পাচ্ছি। অন্যদিকে, যাদের এই সনদ নেই, তাদের অনেক সময় বাধ্য হয়ে অনেক কম দামে পণ্য বিক্রি করতে হচ্ছে।”
এক সময় চট্টগ্রামে ২১টি ট্যানারি সচল থাকলেও এখন টিকে আছে মাত্র একটি। এই পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ী নেতারা। বৃহত্তর চট্টগ্রাম কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ী-আড়তদার সমবায় সমিতির সভাপতি মো. মুসলিম উদ্দিন বলেন, “চট্টগ্রামে এক সময় চামড়া শিল্পের ব্যাপক সমৃদ্ধি ছিল। কিন্তু ট্যানারিগুলো একের পর এক বন্ধ হওয়ায় এখন আমরা বিপর্যয়ের মুখে। সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি বন্ধ হয়ে যাওয়া ট্যানারিগুলো পুনরায় চালু করার উদ্যোগ না নেয়, তবে এই শিল্প পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, রিফ লেদারের মতো অন্যান্য ট্যানারিগুলোকেও যদি আধুনিকায়ন ও এলডব্লিউজি সনদের আওতায় আনা যায়, তবে চামড়া খাত আবার দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাত হিসেবে তার হারানো অবস্থান ফিরে পাবে। চট্টগ্রামের ভৌগোলিক অবস্থান ও কাঁচা চামড়ার সহজলভ্যতাকে কাজে লাগিয়ে নতুন করে ট্যানারি শিল্পে বিনিয়োগ ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা এখন সময়ের দাবি।