রংপুরের বাজারে সপ্তাহের ব্যবধানে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে পেঁয়াজের দাম। নতুন পেঁয়াজের সরবরাহ বাড়ায় খুচরা বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম ৯০-১০০ টাকা থেকে নেমে এসেছে ৫০-৬০ টাকায়। একই সঙ্গে কাঁচামরিচসহ কয়েকটি শীতকালীন সবজির দামও কমেছে।তবে চাল, ডাল, তেল, ডিম, মাছ ও মাংসের বাজারে বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি।

মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) দুপুরে রংপুর নগরীর সিটি বাজার, মুলাটোল আমতলা, জাহাজ কোম্পানি মোড় ও আশপাশের কয়েকটি বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।খুচরা বাজারে নতুন দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬০ টাকা কেজি দরে। আমদানি করা পেঁয়াজের দাম ৬০-৭০ টাকা কেজি এবং পাতাপেঁয়াজ আগের মতোই ৩৫-৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

সিটি বাজারের পেঁয়াজ বিক্রেতা মোতালেব হোসেন বলেন,এখন মাঠ থেকে নতুন পেঁয়াজ উঠতে শুরু করেছে।সরবরাহ বাড়ায় দাম দ্রুত কমেছে। সামনে দাম আরও কিছুটা কমতে পারে, তবে ৪০ টাকার নিচে নামার সম্ভাবনা কম।

পাইকারি বাজারেও পেঁয়াজের দরে বড় পতন দেখা গেছে। গত সপ্তাহে যেখানে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৬০ টাকা ছিল, সেখানে বর্তমানে তা ৪৮-৫২ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।এতে খুচরা বাজারেও সর্বোচ্চ দাম ৬০ টাকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।পেঁয়াজের পাশাপাশি কাঁচামরিচের দামও কমেছে। এক সপ্তাহ আগে যেখানে কাঁচামরিচ ৫০-৬০ টাকা কেজি ছিল,এখন তা বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫০ টাকা দরে। বিক্রেতারা জানান, সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় আপাতত দাম বাড়ার আশঙ্কা নেই।

সবজি বাজার ঘুরে দেখা যায়, বেশ কয়েকটি শীতকালীন সবজির দাম কমেছে।ফুলকপি ও বাঁধাকপি গত সপ্তাহে ২৫-৩০ টাকা থাকলেও এখন ১০-১৫ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। লাউ আকারভেদে ৩০-৪০ টাকা, গোল বেগুন ৪০-৫০ টাকা, পটল ৫০-৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে টমেটোর দাম অপরিবর্তিত থেকে ৭০-৮০ টাকা কেজিতেই রয়েছে। গাজর ৫০-৬০ টাকা, মুলা ২৫-৩০ টাকা, শিম ৩০-৪০ টাকা, বরবটি ৫০-৬০ টাকা এবং করলা ৭০-৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

সিটি বাজারের সবজি বিক্রেতা মাহমুদুল ইসলাম বলেন, “শীতকালীন সবজির সরবরাহ এখন প্রচুর। তাই বেশ কয়েকটি সবজির দাম কমেছে। সামনে বড় কোনো উৎসব না থাকায় আপাতত দাম বাড়ার সম্ভাবনা কম।

আলুর বাজারেও কিছুটা স্বস্তি দেখা গেছে। কার্ডিনাল আলু ১৩-১৫ টাকা, নতুন আলু ২৫-৩০ টাকা, সাদা নতুন আলু ১২-১৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।তবে বগুড়ার লাল পাকড়ি আলু ৩৫-৪০ টাকা এবং ঝাউ আলু ৩৫-৪০ টাকায় স্থিতিশীল রয়েছে।

মুরগি ও মাংসের বাজারে তেমন কোনো পরিবর্তন নেই। ব্রয়লার মুরগি ১৫০-১৬০ টাকা, পাকিস্তানি সোনালি ২৫০-২৮০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৫০০-৫২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস ৭২০-৭৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১১০০ টাকা কেজিতেই স্থিতিশীল রয়েছে।

মুলাটোল আমতলা বাজারের মুরগি বিক্রেতা সাকিল হোসেন বলেন, “গত তিন সপ্তাহ ধরে মুরগির বাজার মোটামুটি স্থিতিশীল। দাম কমলে বিক্রি বাড়ে, কিন্তু এখন বাজার ভারসাম্যেই আছে।

ডিমের বাজারেও স্থিতিশীলতা রয়েছে। পোলট্রি ডিমের হালি ৩৬-৩৮ টাকা দরে বিক্রি হলেও পাড়া-মহল্লার দোকানে কোথাও কোথাও ৪০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে।চাল, ডাল ও তেলের বাজারেও বড় কোনো পরিবর্তন নেই। স্বর্ণা চাল ৪৮-৫০ টাকা, বিআর-২৮ চাল ৬৫-৭০ টাকা, মিনিকেট চাল ৮৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৯৫-২০০ টাকা এবং খোলা সয়াবিন তেল ১৮০-২০০ টাকা দরে রয়েছে।মাছের বাজারে রুই ৩০০-৩৮০ টাকা, পাঙাশ ১৫০-২০০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০-২৫০ টাকা এবং দেশি গছিমাছ ৮০০-১২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

তবে পেঁয়াজ ও কিছু সবজির দরে বড় পতনে মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের ক্রেতাদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে এই ধারা আরও কিছুদিন বজায় থাকতে পারে।