চট্টগ্রামে দুর্বৃত্তদের হাত থেকে জীবন বাঁচাতে একটি নির্মাণাধীন ভবনের অষ্টম তলায় আশ্রয় নিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি আশফাক কবির সাজিদ (১৭) নামে এক কলেজ ছাত্রের। দুর্বৃত্তদের মারধরের মুখে ভবনের লিফটের গর্তে পড়ে নির্মম মৃত্যু হয়েছে তার। এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত কিশোর গ্যাং লিডারসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গত রোববার বিকেলে নগরীর চকবাজার থানার বাকলিয়া অ্যাকসেস রোডের মৌসুমী আবাসিক এলাকায় এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত সাজিদ চট্টগ্রামের বিএএফ শাহীন কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— এনায়েত উল্লাহ (৪৭), আইমন (২৪), মিশকাতুল কায়েস (১৯) এবং ভবনের প্রহরী এনামুল হক (৫৫)। পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারদের মধ্যে এনায়েত উল্লাহ এলাকাভিত্তিক একটি কিশোর গ্যাংয়ের নেতৃত্ব দেন এবং তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাজিদ চকবাজার শিশু কবরস্থান এলাকার একটি মেসে থাকতেন। রোববার বিকেলে বৌবাজার এলাকায় অবস্থানকালে একদল যুবক তাকে চাকুর ভয় দেখিয়ে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তাদের কবল থেকে বাঁচতে সাজিদ প্রাণপণে দৌড়ে স্থানীয় ‘আমিন অ্যান্ড হাসান ম্যানশন’ নামের একটি নির্মাণাধীন ভবনে ঢুকে পড়ে। ভেতরে ঢুকে সে ভবনের প্রধান ফটক আটকে দিয়ে আট তলায় আশ্রয় নেয়।
অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা ভবনের প্রহরীর কাছে সাজিদকে ‘চোর’ বলে পরিচয় দিয়ে গেট খোলার নির্দেশ দেয়। প্রহরী এনামুল হক তাদের বিশ্বাস করে গেট খুলে দিলে হামলাকারীরা আট তলায় উঠে সাজিদকে মারধর শুরু করে। এক পর্যায়ে সে ভবনের লিফটের ফাঁকা জায়গা দিয়ে নিচে পড়ে যায়। স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে ৯৯৯-এর মাধ্যমে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবুল আজাদ বলেন, “দুই পক্ষের কিশোরদের মধ্যে পূর্ব বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ঠিক কী কারণে তারা সাজিদকে ধাওয়া করেছিল এবং এর পেছনে আর কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তার চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করা হয়েছে। অপরাধী যেই হোক, তদন্তের মাধ্যমে তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।
Development by: webnewsdesign.com