দেশের জ্বালানি তেলের মজুত পরিস্থিতি আরও শক্তিশালী করতে চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়েছে জ্বালানিবাহী জাহাজ। মঙ্গলবার সকালে সিঙ্গাপুর থেকে প্রায় ১২ হাজার টন জেটি-এ-১ (উড়োজাহাজের জ্বালানি) নিয়ে একটি জাহাজ বন্দরের জেটিতে নোঙর করেছে। এই চালানটি সরবরাহ করেছে ভারতের একটি জ্বালানি প্রতিষ্ঠান।
এদিকে, একই দিন রাতে আরও ৬৮ হাজার টন ডিজেল নিয়ে দুটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, একটি জাহাজে ৩৩ হাজার টন এবং অন্যটিতে ৩৫ হাজার টন ডিজেল রয়েছে। এই নতুন চালানগুলো দেশের সামগ্রিক জ্বালানি মজুত ও সরবরাহ পরিস্থিতিকে আরও স্থিতিশীল করবে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) তথ্য অনুযায়ী, ১২ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে প্রায় ২২ হাজার টন উড়োজাহাজের জ্বালানি মজুত ছিল, যা দিয়ে প্রায় দুই সপ্তাহের চাহিদা মেটানো সম্ভব। নতুন চালান আসায় এই মজুত আরও বৃদ্ধি পেল। চলতি মাসের প্রথম ১২ দিনে প্রায় ২১ হাজার টন জেট ফুয়েল বিক্রি হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় কিছুটা বেশি।
অন্যদিকে, দেশের মোট জ্বালানি ব্যবহারের প্রায় ৬৩ শতাংশই ডিজেলনির্ভর। কৃষি, পরিবহন, শিল্পকারখানা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। চলতি এপ্রিল মাসে ডিজেলের মোট চাহিদা চার লাখ টন নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিপিসির তথ্যমতে, চলতি মাসের শুরুতেই দুটি জাহাজে প্রায় ৬১ হাজার টন ডিজেল দেশে এসেছে। ১ থেকে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত মোট ১ লাখ ৩৩ হাজার টন ডিজেল বিক্রি হয়েছে, যার দৈনিক গড় প্রায় ১১ হাজার টনের বেশি। ১২ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে প্রায় ১ লাখ ১৯ হাজার টন ডিজেল মজুত ছিল, যা দিয়ে ১০ দিনের চাহিদা মেটানো সম্ভব। নতুন করে ৬৮ হাজার টন ডিজেল যুক্ত হওয়ায় এই সক্ষমতা আরও কয়েক দিন বৃদ্ধি পাবে।
এ বিষয়ে বিপিসির চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান বলেন, ‘নির্ধারিত সরবরাহের পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে আমরা বিকল্প উৎস থেকেও তেল আমদানির উদ্যোগ নিয়েছি। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি জাহাজ বন্দরে পৌঁছেছে, আরও কিছু আসার অপেক্ষায় রয়েছে। এপ্রিল মাসে জ্বালানি সরবরাহে কোনো ধরনের সংকট হওয়ার আশঙ্কা নেই।’
Development by: webnewsdesign.com