পাহাড়ের অন্যতম শীর্ষ পর্যটনকেন্দ্র সাজেক ভ্যালি এখন পুরোপুরি নিস্তব্ধ ও অচল। আঞ্চলিক দলগুলোর আধিপত্য বিস্তারের লড়াই, অনাকাঙ্ক্ষিত সহিংসতা এবং ১১ অক্টোবর থেকে চলা দফায় দফায় অনির্দিষ্টকালের অবরোধে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে পুরো এলাকার জনজীবন। পর্যটন মৌসুমে যেখানে লাখো পর্যটকের সমাগম হওয়ার কথা, সেখানে এখন বিরাজ করছে চরম অনিশ্চয়তা। কর্মহীন হয়ে মানবিক সংকটে পড়েছেন পর্যটন ও পরিবহন খাতের কয়েক হাজার মানুষ।
সংঘর্ষ থেকে চরম অস্থিরতা।ঘটনার সূত্রপাত গত ২৯ সেপ্টেম্বর। সাজেক ইউনিয়নের চাইল্যাতলী এলাকায় ইউপিডিএফ ও জেএসএসের গোলাগুলির মাঝে পড়ে ৭ বছরের এক শিশু (সঞ্চিতা ত্রিপুরা) গুলিবিদ্ধ হলে ক্ষোভে ফেটে পড়ে স্থানীয়রা। এর প্রতিবাদে সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশন ও গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ৮ অক্টোবর ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেয়। দাবি না মানায় ১১ অক্টোবর থেকে শুরু হয় লাগাতার অবরোধ।
পরস্পর বিরোধী অভিযোগ ও প্রশাসনিক অবস্থান
সংকট নিরসনে গণঅধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা নিরাপত্তাহীনতার কথা তুলে ধরে জেএসএস-কে দায়ী করেন। অন্যদিকে, বাঘাইছড়ি সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোজাম্মেল হক জানান, ইউপিডিএফ অবরোধকারী সংগঠনগুলোকে ইন্ধন দিয়ে সাজেকে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গত ২৬ অক্টোবর খাগড়াছড়ি সার্কিট হাউজে সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়া জানান, সংগঠনগুলোর ৫টি দাবির ৪টিতে সমঝোতা হলেও স্থায়ী সমাধানের জন্য সকল অবৈধ অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
দৈনিক কোটি টাকার ক্ষতি, ধসে পড়েছে অর্থনীতি
সেপ্টেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি—পর্যটনের এই ভরা মৌসুমে সাজেক বন্ধ থাকায় মাথায় হাত পড়েছে হোটেল-রিসোর্ট মালিক, ব্যবসায়ী ও পরিবহন শ্রমিকদের।
পর্যটন খাত: রিসোর্ট ও কটেজ বন্ধ থাকায় প্রতিদিন অন্তত ২ কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে।
পরিবহন খাত: যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় বেকার হাজারো চালক ও শ্রমিক, ক্ষতির পরিমাণ ছাড়িয়েছে কোটি টাকা।
স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসা: পর্যটক না থাকায় বেচাকেনা বন্ধ স্থানীয় দোকানপাটে।
বিক্ষুব্ধ জনমন, দ্রুত সমাধানের দাবি
আঞ্চলিক দলগুলোর আধিপত্যের লড়াইয়ে পিষ্ট খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ এখন চরম ক্ষুব্ধ। স্থানীয় বিশ্লেষকদের মতে, এ অবস্থা চলতে থাকলে পাহাড়ের খেটে খাওয়া মানুষই আঞ্চলিক দলগুলোর বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে উঠবে।
দীর্ঘস্থায়ী এই সংকটের নিরসন, যোগাযোগব্যবস্থা পুনর্দখল এবং পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন সাজেকের ব্যবসায়ী ও সাধারণ বাসিন্দারা।

মন্তব্য করুন