রংপুরে ব্যাঙ্গের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে ক্লিনিকের ব্যবসা। পুলিশ প্রশাসন ও সিভিল সার্জেনের নাকের ডগায় চলছে জমজমাট ব্যবসা।
নগরীতে বাহারী নামে অনুমোদনহীন ক্লিনিকের সংখ্যা দিনদিন বাড়ছে। এ জেলায় ৩১৩টির মধ্যে ১৯৫টির নেই কোনো অনুমোদন। ফলে এসব ক্লিনিকে অপচিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর ঘটনাও বেড়ে চলছে।গেল বছরে ভুল চিকিৎসায় প্রায় শতাধিক প্রসূতি ও শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে মামলাও হলেও টনোক নড়ছে কারোই।
এদিকে দায় থেকে বাঁচতে অনেক ক্লিনিক মালিক নামধারী সংবাদ কর্মী ও দালালদের সহযোগীতায় টাকা দিয়ে রোগীর সঙ্গে আপস করে নিচ্ছেন।এতে করে প্রতিনিয়ত একের পর এক রোগীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে।২০১৮ সালের নভেম্বর থেকে চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত নগরীর উত্তম সেবা ক্লিনিক ছাড়াও রোজ হাসপাতাল, ওরিয়ন ক্লিনিক, স্কয়ার হাসপাতালসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে ভুল চিকিৎসায় মৃত্যু হয়েছে অন্তত ছয় প্রসূতির।গেল কয়েক দিন আগেই রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গের সামনে সন্তানকে হারিয়ে বিলাপ করছিলেন আলেয়া খাতুন।
দালালের খপ্পরে পড়ে প্রসূতি মেয়েকে নিয়ে এসেছিলেন নগরীর উত্তম সেবা ক্লিনিকে। কিন্ত কিছু বুঝে ওঠার আগেই ভুল চিকিৎসায় প্রাণ দিতে হয় ওই প্রসূতিকে ।
রংপুর ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শামছুর রহমান কোয়েল বলেন, এসব ক্লিনিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদফতরে একাধিকবার চিঠি দেয়া হয়েছে।
রংপুর সিভিল সার্জন অফিসের কর্মকর্তারা জানান, প্রতিনিয়ত ক্লিনিকগুলোর বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত চালানো হচ্ছে। অসংগতি থাকায় অনেক ক্লিনিক সিলগালা ও লাইসেন্স বাতি করা হয়েছে। কিন্তু লাইসেন্স বাতিল হওয়া ক্লিনিকগুলো নাম পাল্টিয়ে ব্যবসা করছে।
সিভিল সার্জন হিরম্বর কুমার রায় বলেন, সচেতনতার অভাবে অনেকে দালালদের মাধ্যমে নগরীর নিম্নমানের বেসরকারি হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এতে রোগীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।
তিনি আরো বলেন, ক্লিনিকে রোগী মারা যাওয়ার ব্যাপারে স্বজনরা লিখিতভাবে কোনো অভিযোগ করে না। করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
