আত্মীয়ের বাড়িতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিলেন শহীদুল ইসলাম। গন্তব্য ছিল চাঁপাইনবাবগঞ্জ। কিন্তু সেই যাত্রার শেষ হলো মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায়। নাটোরের বড়াইগ্রামে বাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন ব্র্যাক ব্যাংকের মাগুরা শাখার জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক শহীদুল ইসলাম ও তাঁর পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে তাছফিয়া খাতুন। আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তাঁর স্ত্রী রুবিনা বেগম ও ছেলে মো. লাবিব।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিকেলে আরপি নাইস পরিবহনের একটি বাসে পটুয়াখালী থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হয় পরিবারটি। বাস কাউন্টারের তথ্য অনুযায়ী, বিকেল ৪টার দিকে বাসটি বরগুনা থেকে ছেড়ে আসে। পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জের সুবিদখালী থেকে বাসে ওঠেন রুবিনা বেগম ও তাঁর দুই সন্তান। পরে মাগুরা থেকে তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন শহীদুল ইসলাম।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ভোরে নাটোরের বড়াইগ্রামের সরদারপাড়া এলাকায় বনপাড়া-পাবনা মহাসড়কে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বালুবোঝাই ট্রাকের সঙ্গে বাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ১৪ জন নিহত হন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন শহীদুল ও তাঁর ছোট মেয়ে তাছফিয়া।

মাত্র পাঁচ বছর বয়সী তাছফিয়া স্থানীয় একটি নুরানি মাদরাসায় পড়ত। যে বয়সে বাবার হাত ধরে পৃথিবীকে চেনার কথা, ভাইয়ের সঙ্গে খেলাধুলায় মেতে থাকার কথা, সেই বয়সেই থেমে গেল তার জীবন।

শহীদুলের ছেলে লাবিব সুবিদখালী আইডিয়াল স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী। দুর্ঘটনায় বাবাকে হারানোর পাশাপাশি ছোট বোনের মৃত্যুশোকও বইতে হচ্ছে তাকে। অন্যদিকে, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মায়ের সুস্থ হয়ে ওঠার অপেক্ষায় রয়েছে সে।

শহীদুলের স্ত্রী রুবিনা বেগম পূবালী ব্যাংকের সুবিদখালী শাখার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। পরিবারের চার সদস্য একসঙ্গে যাত্রা করলেও দুর্ঘটনার পর তাঁদের জীবন বদলে গেছে মুহূর্তেই। বাবা ও মেয়ের মরদেহ ফিরছে গ্রামের বাড়িতে, আর মা-ছেলে চিকিৎসাধীন হাসপাতালে।

শহীদুলের ফুফাতো ভাই সুজন হাওলাদার জানান, বাবা ও মেয়ের মরদেহ সুবিদখালীর গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হচ্ছে। স্বজনেরা তাঁদের অপেক্ষায় রয়েছেন।

যে বাড়িতে একসঙ্গে চারজনের ফিরে আসার কথা ছিল, সেখানে ফিরছেন বাবা ও মেয়ে নিথর দেহে। আনন্দের অপেক্ষা বদলে গেছে শোক আর কান্নায়।