স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ আগামী ২৯ নভেম্বর আগাম সাধারণ নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন। সোমবার টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে তিনি বলেন, পার্লামেন্টে আইন পাস এবং সরকারের কার্যক্রম এগিয়ে নিতে নতুন করে জনগণের সমর্থন প্রয়োজন।
এর আগে শুক্রবার সানচেজ সরকারের প্রস্তাবিত আবাসন সহায়তা ব্যবস্থা পার্লামেন্টে প্রত্যাখ্যাত হয়। প্রস্তাবগুলোর মধ্যে ছিল ভাড়ার চুক্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নবায়ন এবং অসহায় ভাড়াটিয়াদের উচ্ছেদের ক্ষেত্রে সুরক্ষা বাড়ানোর বিধান। বিরোধী দলগুলোর পাশাপাশি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মিত্রদের একটি অংশও প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেয়।
এই পরাজয়ের ফলে সানচেজের সংখ্যালঘু সরকারের সামনে নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। ২০১৮ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা সানচেজ সরকার ২০২৩ সালের বাজেট কাঠামোর আওতায় কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। ২০২৭ সালে পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও তার আগেই ভোট আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।
এদিকে স্পেনে বাড়ি ও ভাড়ার ক্রমবর্ধমান ব্যয় নিয়ে মানুষের ক্ষোভ বাড়ছে। সাশ্রয়ী আবাসনের দাবিতে শনিবার রাজধানী মাদ্রিদসহ বিভিন্ন শহরে হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভ করেন। মাদ্রিদের প্রাণকেন্দ্রেও আবাসন খাতে সংস্কারের দাবিতে বিক্ষোভকারীরা একটি ‘তাঁবুর শহর’ গড়ে তুলেছেন।
আবাসন সংকটের বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে গত মাসে ৮৭ বছর বয়সী অবসরপ্রাপ্ত নারী মারিকারমেন আবাসকালকে মাদ্রিদে তাঁর কয়েক দশকের পুরোনো বাসা থেকে উচ্ছেদের ঘটনায়। ঘটনাটি দেশজুড়ে আবাসন অধিকার ও উচ্ছেদ নীতি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করে।
আগাম নির্বাচনের ঘোষণার আগে প্রকাশিত সাম্প্রতিক জনমত জরিপগুলোতে প্রধান বিরোধী দল রক্ষণশীল পপুলার পার্টি সমাজতন্ত্রীদের তুলনায় বেশি সমর্থন পাচ্ছে বলে দেখা গেছে। তবে জরিপের ফলাফল নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল নির্ধারণ করে না; শেষ পর্যন্ত ভোটারদের সিদ্ধান্তই নির্বাচনের ফল নির্ধারণ করবে।

মন্তব্য করুন