মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সরকার। এর অংশ হিসেবে ইরান ও সৌদি আরব থেকে মোট ২ লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল (ক্রুড অয়েল) দ্রুত দেশে আনার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, মে মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই এই বিশাল পরিমাণ তেল চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছাবে।
বর্তমানে ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে ‘এমটি নরডিক পলুকস’ নামক একটি জাহাজ পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালিতে আটকা পড়ে আছে। সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দর থেকে ছেড়ে আসা এই জাহাজটি ইরানের বিশেষ ছাড়পত্র না পাওয়ায় বাংলাদেশে আসতে পারছে না। জাহাজটি দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে ইরানের সঙ্গে নিবিড় কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। অনুমতি পাওয়া মাত্রই জাহাজটি সরাসরি চট্টগ্রামের পথে রওনা হবে।
হরমুজ প্রণালির সামরিক ও রাজনৈতিক জটিলতা এড়াতে বিকল্প কৌশল হিসেবে সৌদি আরব থেকে নতুন করে আরও ১ লাখ টন ক্রুড অয়েল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এই তেল লোহিত সাগরের উপকূলে অবস্থিত সৌদি আরবের ইয়ানবু কমার্শিয়াল পোর্ট থেকে সরাসরি আমদানি করা হবে। আগামী ২০ এপ্রিল এই তেল জাহাজে লোড করার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের তথ্যমতে, আগামী এক মাসের মধ্যে এই ২ লাখ টন তেল দেশে পৌঁছালে চলমান জ্বালানি সংকট অনেকটাই লাঘব হবে।
তবে ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের সাবেক মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মনজারে খোরশেদ আলম জানান: ”এই তেল দেশে পৌঁছালে সংকট অনেকটা কাটবে ঠিকই, তবে বাড়তি অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে বিদেশ থেকে আরও ডিজেল আমদানির প্রয়োজন হতে পারে।”
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মার্চ মাসে বিকল্প উৎস থেকে অন্তত ৩৯টি জ্বালানি তেলের জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে এসেছে, যা বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে সরকারের সক্রিয় তৎপরতারই বহিঃপ্রকাশ। মে মাসের শুরুতে নতুন এই চালানগুলো খালাস শুরু হলে দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের মজুত ও সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালী ভিতের ওপর দাঁড়াবে।
Development by: webnewsdesign.com