চট্টগ্রামের রাউজানে শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দিবাগত রাতে মাছ ধরতে যাওয়ার পথে মোহাম্মদ বাবুল (৩৫) নামে এক যুবককে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গভীর রাতে বি এম এ ব্রিক ফিল্ড সংলগ্ন খালে ওৎ পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালালে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত মোহাম্মদ বাবুল রাউজান উপজেলার ডঙ্গল রাউজান এলাকার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আবুল কালাম আজাদের ছেলে। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া ও চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে ঘর থেকে বের হন বাবুল। বি এম এ ব্রিক ফিল্ডের পেছনের খালে পৌঁছামাত্র আগে থেকে ওৎ পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে অতর্কিত গুলি চালায়। গুলির শব্দ শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে দুর্বৃত্তরা দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে দীর্ঘ সময় লড়াইয়ের পর শনিবার ভোর ৫টা ৩০ মিনিটের দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির এসআই আলাউদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, রাউজান থেকে গুলিবিদ্ধ এক ব্যক্তিকে আনা হয়েছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভোরের দিকে তার মৃত্যু হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে রাখা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
হত্যাকাণ্ডের মোটিভ সম্পর্কে রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাজেদুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, নিহত বাবুল অতীতে বিভিন্ন সময় প্রশাসনের সোর্স হিসেবে তথ্য দিয়ে সহায়তা করতেন। এই পরিচয়ের জের ধরে বা পূর্বশত্রুতার জেরে তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে কি না, তা আমরা খতিয়ে দেখছি। আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি এবং অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে ইতিমধ্যে পুলিশের একাধিক টিম অভিযানে নেমেছে।’
এ ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। স্থানীয় সচেতন মহল এবং এলাকাবাসীর দাবি, রাউজানের মতো জনবহুল এলাকায় গভীর রাতে এ ধরনের নৃশংস হত্যাকাণ্ড আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির ইঙ্গিত দেয়। স্থানীয়রা দ্রুত খুনিদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সময় ওই এলাকায় কারা অবস্থান করছিল এবং কললিস্ট বা অন্যান্য পারিপার্শ্বিক তথ্য বিশ্লেষণ করে অপরাধীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। তবে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি, যদিও পুলিশের পক্ষ থেকে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
নিহত বাবুলের পরিবারে চলছে শোকের মাতম। তাকে হারিয়ে স্বজনরা বাকরুদ্ধ। এলাকাবাসী এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন খুনিদের বিচার দেখার জন্য।
Development by: webnewsdesign.com