শ্রেণিকক্ষে হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত ১৮ শিক্ষার্থী

বান্দরবান তীব্র দাবদাহ ও লোডশেডিংয়ের কবলে লামা

রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬ | ৮:৫৮ অপরাহ্ণ

বান্দরবান তীব্র দাবদাহ ও লোডশেডিংয়ের কবলে লামা
apps

​তীব্র দাবদাহ এবং অসহনীয় ভ্যাপসা গরমে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বান্দরবানের লামা উপজেলায়। এর মধ্যেই রোববার (২৬ এপ্রিল) দুপুরে সরই উচ্চ বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান চলাকালীন সময়ে হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে ১৮ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় এলাকায় অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, রোববার বেলা ১২টার দিকে হঠাৎ করেই বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ বোধ করতে শুরু করে। মুহূর্তের মধ্যে অসুস্থতা ছড়িয়ে পড়ে এবং পর্যায়ক্রমে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির মোট ১৮ জন শিক্ষার্থী একইভাবে হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হয়।

​অসুস্থ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ষষ্ঠ শ্রেণির ৬ জন (সাদিয়া আক্তার, জান্নাতুল মাওয়া, জুনাইদুল ইসলামসহ), সপ্তম শ্রেণির ৭ জন (শামীমা আক্তার, ইয়াসিন আরাফাতসহ), অষ্টম শ্রেণির ২ জন (শাহিদা বেগম, তাসনিমা আক্তার) এবং দশম শ্রেণির ৩ জন (সং লেং ম্রো, ফাতেমা আক্তার ও শিফা আক্তার) শিক্ষার্থী রয়েছে।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত কয়েক দিনের ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা এবং ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে শ্রেণিকক্ষে অস্বস্তিকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা না থাকা এবং গাদাগাদি করে বসায় তীব্র গরমে শিক্ষার্থীরা পানিশূন্যতায় (ডিহাইড্রেশন) ভুগে অসুস্থ হয়ে পড়ে।

​এ বিষয়ে সরই উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নীতি পূর্ণ বড়ুয়া বলেন, “দুপুরের পর থেকেই শিক্ষার্থীরা একে একে অসুস্থ হতে থাকে। তীব্র গরমে শ্রেণিকক্ষে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। দ্রুত তাদের নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।”

লামা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের কর্মকর্তা ডা. মো. নাদিম মাহমুদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, অসুস্থ শিক্ষার্থীরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বর্তমানে বাড়িতে ফিরে গেছে, হাসপাতালে এখন কেউ ভর্তি নেই।

​এদিকে ঘটনাটি গুরুত্বের সাথে নিয়েছে শিক্ষা বিভাগ। বান্দরবান জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জসীম উদ্দীন বলেন, “বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। ঘটনার কারণ ও বিদ্যালয়ের সার্বিক পরিস্থিতি দ্রুত খতিয়ে দেখা হবে।”

উল্লেখ্য, গত তিন দিন আগেও একই বিদ্যালয়ের আরও ৬ জন শিক্ষার্থী প্রচণ্ড গরমে অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। একের পর এক এমন ঘটনায় অভিভাবকরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, টানা গরম ও দীর্ঘমেয়াদী লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা ও ফ্যানের বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত না করলে এমন পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।

Development by: webnewsdesign.com