বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার সম্মানকাঠী গ্রামে পৈত্রিক ও ক্রয়কৃত জমিজমা নিয়ে আপন ভাইয়ের মধ্যে বিরোধ চরম আকার ধারণ করেছে। পরিবারের একাধিক ওয়ারিশ দুই আপন ভাইয়ের বিরুদ্ধে নির্ধারিত অংশের চেয়ে বেশি জমি ভোগ-দখলের অভিযোগ তুলেছেন। এ ঘটনায় জমি উদ্ধার ও আইনানুগ বণ্টনের দাবিতে মোঃ হাবিবুর রহমান লিখিত অভিযোগ করেছেন। মোঃ হাবিবুর রহমান কচুয়া উপজেলার সম্মানকাঠী গ্রামের মৃত খেরাজ উদ্দিন শেখের ছেলে।
মোঃ হাবিবুর রহমান জানান, তাদের পরিবারে ১০ ভাই, ৪ বোন ও ১ জন মাতা ওয়ারিশ রয়েছেন। পিতার মৃত্যুর পর সকলের প্রাপ্য অংশ সমানভাবে বণ্টনের কথা থাকলেও দুই ভাই মো. হাফিজুর রহমান শেখ ও মো. জিল্লুর রহমান শেখ নিজেদের অংশের চেয়ে অতিরিক্ত জমি দখলে রেখেছেন বলে অভিযোগ করা হয়।
ওয়ারিশদের দাবি, প্রত্যেক ভাইয়ের প্রাপ্য ১০৩ শতক জমি হলেও অভিযুক্তদের একজন ১১৪ শতক জমি বিক্রি করে বর্তমানে ৯৭ শতক ভোগ-দখলে রেখেছেন। অপরজন ১০৮ শতক জমি বিক্রি করে বর্তমানে ১৩৭ শতক জমি দখলে রেখেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এছাড়া পৈত্রিক বাড়ির ঘর বিক্রি এবং প্রায় ১০-১২ লাখ টাকার গাছ বিক্রির অভিযোগও আনা হয়েছে।
একাধিক ভুক্তভোগী জানান, বিষয়টি মীমাংসার লক্ষ্যে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে একাধিকবার সালিশ বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০২০, ২০২১ ও ২০২২ সালে পৃথকভাবে বৈঠকের তারিখ নির্ধারণ করা হলেও অভিযুক্তরা উপস্থিত হননি। সর্বশেষ ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে পুনরায় সমাধানের তারিখ নির্ধারণ করা হলেও সেদিনও তারা হাজির হননি বলে অভিযোগ করা হয়। একাধিকবার প্রশাসনের দ্বারস্থ হলেও কার্যকর সমাধান হয়নি বলে দাবি করেন ভুক্তভোগীরা।
এছাড়া অভিযোগকারীরা দাবি করেন, বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নিলে অভিযুক্ত দুই ভাই ও তাদের লোকজন দিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ বিভিন্নভাবে হুমকি-ধামকি প্রদান করে।
সম্পত্তির দাবিদার হিসেবে মৃত আমজেদ শেখ, মৃত আজিজুল হক, মৃত মোস্তাফিজুর রহমান, মৃত ছাহেরা বেগম, ফাতেমা বেগম, মো. হাবিবুর রহমান, মৃত রাবিয়া বেগম ও মৃত লেহাজ উদ্দিনের ওয়ারিশদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত ওয়ারিশরা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে অবৈধ দখলমুক্ত করে আইন অনুযায়ী স্ব-স্ব অংশ বুঝিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
Development by: webnewsdesign.com