কুড়িগ্রাম ভূরুঙ্গামারী ফাজিল মাদ্রাসার ফাজিল প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী প্রতিবন্ধী মোশাররফ হোসেন (২৬)।
একজন প্রতিবন্ধী কলেজ ছাত্রের জীবন কাহিনী মানেই হলো অদম্য ইচ্ছাশক্তি, কঠোর পরিশ্রম এবং শত বাধা পেরিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার এক অনুপ্রেরণাদায়ক উপাখ্যান। শারীরিক বা মানসিক সীমাবদ্ধতা তার মেধা ও স্বপ্নকে দমিয়ে রাখতে পারে নাই।
অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষক বা সহপাঠীদের নেতিবাচক মনোভাব পরে এরকম শিক্ষার্থীর উপর। প্রতিবন্ধী কলেজ ছাত্র মোশাররফ হোসেন বলেন জীবনের প্রধান লক্ষ্য হলো—সাধারণ মানুষের মতো কর্মসংস্থানের সুযোগ পাওয়া এবং সমাজের বোঝা না হয়ে, বরং নিজের মেধার জোরে স্বাবলম্বী হওয়া। আমি সফল হয়ে অন্য প্রতিবন্ধী নারী বা পুরুষদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকতে চাই।
মোশাররফ অনেক বাধা বিপত্তি পেরিয়ে সে ভালো ফলাফল করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বিগত স্কুল কলেজের পরিক্ষা গুলোতে।
শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন বুকে নিয়ে ফাজিল প্রথম বর্ষে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার সদর ইউনিয়নের বাগভান্ডার গ্রামের মোশাররফ হোসেন। তবে দারিদ্র্যের কারণে তার লেখাপড়া এখন হুমকির মুখে। শিক্ষা চালিয়ে নিতে সরকারি,বেসরকারি সহযোগিতা চেয়েছেন এই মেধাবী প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী।
মোশাররফ হোসেনের বাবা ক্বারী মো: নুরুল ইসলাম একজন মসজিদের মোয়াজ্জেম।মোশারর এর জন্ম পর থেকেই দুই পা অচল। হাঁটতে পারেন না, হুইলচেয়ারই তার একমাত্র ভরসা। তবুও থেমে থাকেনি তার পড়াশোনা এবং কর্ম জীবন।মাদ্রাসায় ফাজিল প্রথম বর্ষে অধ্যয়নরত মোশাররফ ।বই-খাতা কেনা, ফরম ফিলাপ,ওষুধের খরচ চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন মোশাররফ ও তার বাবা।

মোশাররফ হোসেনের এলাকার লোকজন বলেন ছেলেটা খুব মেধাবী, পরিশ্রমী,সে জন্মের কিছুদিন পর থেকেই প্রতিবন্ধী তার দুটি পায়ের সমস্যা। সে হাঁটতে পারে না, হুইলচেয়ার একমাত্র সম্বল চলাচলের।মোশারফ সকাল ১০ টা পযন্ত মুদির দোকানে বসেন।১০ টার পরে কলেজ থাকলে কলেজে যায়,কলেজ না থাকলে কম্পিউটার দোকানে গিয়ে কাজ করেন,আবার সন্ধার পর বাড়ি ফিরে মুদির দোকানে বসেন।ছেলেটা একটু যদি এপাশ ওপাশ থেকে একটু সহযোগিতা পেত তাহলে ছেলেটা মনে হয় আরো ভালো কিছু করতে পারতো।
মোশাররফ এর বাবা ক্বারী মো: নুরুল ইসলাম জানান, “আমি মসজিদে পাঁচ ওয়াক্ত আযান দেই,মাঝে মাঝে ঈমাম না থাকলে নামাজ পড়াই এখান থেকে যা আসে তা দিয়ে আমাদের সবার খরচ চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। সমাজের বিত্তবান ও সরকার,বা বেসরকারি সংস্থা যদি এগিয়ে আসত তাহলে মোশাররফকে উচ্চ শিক্ষিত করতে পারব।
মাদ্রাসার অধ্যক্ষ বলেন মোশাররফ অত্যন্ত মেধাবী ও নম্র-ভদ্র ছেলে। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও তার ক্লাসে উপস্থিতি নিয়মিত। আমরা মাদ্রাসার পক্ষ থেকে যতটুকু সম্ভব ফি মওকুফ করে দিই। কিন্তু তার আর্থিক সহায়তা খুব দরকার। সরকারি-বেসরকারি সহায়তা পেলে ছেলেটা অনেক দূর যাবে বলে আমার বিশ্বাস।
প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘‘আমার জীবনটা অন্য সাধারণ মানুষের মতো না। আমি অনেক কষ্ট করে আজ এ পযন্ত এসেছি সবার দোয়ায় এবং আমার ইচ্ছা শক্তিতে।আমি মধ্য পরিবারের একজন সন্তান। আমি ভূরুঙ্গামারী কলেজ মোড়ে একটা কম্পিউটার দোকানে কাজ করি এবং আমার বাবা যেটা আয় করে, সেটা দিয়ে আমিসহ আমার পরিবারের কোনো খরচই হয় না।আমি এখন ফাজিল প্রথম বর্ষে পড়াশোনা করছি।আমি পড়াশোনা,কম্পিউটার দোকানে কাজ করে যতটুক সময় পাই সকালে এবং রাতে আমার বাড়ির সামনে ছোট্ট একটি মুদির দোকান দিয়েছি সেখানেই বসি। সরকার থেকে আমাকে একটা ট্রাই সাইকেল দিয়েছে,,,আমি সেটা দিয়ে কলেজ,, দোকান বাড়ি যাওয়া আশা করি।আমি কম্পিউটারে বিভিন্ন স্কুল মাদরাসার রুটিন,, প্রশ্ন, নোটিশ, আবেদন, অভিযোগ,, কম্পোজ সহ অনলাইনে চাকুরীর আবেদন, পাসপোর্টের আবেদন, ই-টিন রেজিষ্ট্রেশন, ভোটার আইডি কার্ড অনলাইন ছবি তোলাসহ ইন্টারনেট ব্রাউজিং এর কাজ করি’’।
‘‘আমি যেহেতু শিক্ষিত, কম্পিউটারের কাজ জানি, তাই সরকারি বা বেসরকারি কোনো প্রজেক্টে কম্পিউটারের কোনো কাজ, বা সহযোগিতা করলে আমি আমার জীবনটা আরও ভালো ভাবে গুছিয়ে বাঁচতে পারবো এবং আমার লক্ষে ইনশাআল্লাহ পৌছাতে পারব। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন’’।
মোশাররফ পরিশেষে বলেন কম্পিউটারে কোনো কাজ থাকলে কলেজ মোড়ে যে দোকানে আমি কাজ করি সেখানে আসবেন আমি সঠিক ভাবে কাজ করে দিবো।
Development by: webnewsdesign.com