প্রশাসনের অবহেলায় প্রাণ গেল রুনার: ইবি অধ্যাপক

মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬ | ১১:২৯ অপরাহ্ণ

প্রশাসনের অবহেলায় প্রাণ গেল রুনার: ইবি অধ্যাপক
apps

আল হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মোজাহিদুর রহমান বলেন, “আসমা সাদিয়া রুনা যখন নৈতিকতার প্রশ্নে আর্থিক স্বচ্ছতার প্রশ্নে এসব বিষয়গুলোকে যখন আর্থিক জবাবদিহিতার মধ্যে আনতে চাইলেন তখনই ওনাকে এই নৃশংস হবে হত্যা করা হলো।

এসব বিষয়গুলো তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে আগেই জানিয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যদি এই বিষয়টিকে আরো গুরুত্ব সহকারে নিতেন ও আগেই যদি ব্যবস্থা নিতেন তাহলে হয়তো তার জীবনটা রক্ষা পেত”।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টায় আয়োজিত মৌন মিছিল শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমরা আসমা সাদিয়া রুনা হত্যার সুষ্ঠু ও দ্রুত বিচার দাবি জানাই। তার হত্যার প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট হয়—তার সততা, নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধই তাকে এই নির্মম পরিণতির দিকে ঠেলে দিয়েছে। তিনি অনিয়ম ও অনৈতিকতার বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছিলেন এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। আমাদের ডিপার্টমেন্ট গুলো তে আর্থিক বিষয়গুলোর কোনো স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নাই একজন চেয়ারম্যান আসেন নামমাত্র হিসাব দিয়ে চলে যান। এগুলোর কোন হিসাব হয় না অডিট হয় না।

তিনি আরো বলেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ঘাটতি স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান। আসমা সাদিয়া রুনা যখন এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তোলেন এবং দায়িত্বপ্রাপ্তদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে চান, তখনই তার ওপর এই নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে। তাই এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (৪ মার্চ) ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়-এর থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনের নিজ অফিস কক্ষে ছুরিকাঘাতে নিহত হন সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) ইবি থানায় বিভাগের সাবেক কর্মচারী ফজলুর রহমানকে প্রধান আসামি করে চারজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন নিহতের স্বামী ইমতিয়াজুর সুলতান। পরে পুলিশ ফজলুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে।

এদিকে, ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সমাজকল্যাণ বিভাগের সাবেক কর্মচারী ও উম্মুল মু’মিনিন আয়েশা সিদ্দিকা হলের সহকারী রেজিস্ট্রার বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাস, সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকার এবং সহকারী অধ্যাপক হাবিবুর রহমানকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। প্রধান আসামি ফজলুর রহমানকে ১ এপ্রিল আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

Development by: webnewsdesign.com