চট্টগ্রাম মিরসরাইয়ের মৃৎপল্লীতে বৈশাখী ধুম: চাকা ঘুরছে দিন-রাত

সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬ | ৮:৩৬ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম মিরসরাইয়ের মৃৎপল্লীতে বৈশাখী ধুম: চাকা ঘুরছে দিন-রাত
apps

বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ ও ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী মেলাকে সামনে রেখে ব্যস্ততার তুঙ্গে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের কুমোরপাড়া। মাটির সোঁদা গন্ধে এখন মুখরিত মৃৎশিল্পীদের আঙিনা। বৈশাখী মেলায় মাটির জিনিসের বাড়তি চাহিদা মেটাতে দিন-রাত এক করে নিপুণ হাতে মাটির চাকা ঘুরিয়ে চলেছেন তারা। দম ফেলার ফুরসত নেই উপজেলার করেরহাট ইউনিয়নের ছত্তরুয়া গ্রামের পাল পাড়ায়।

​সরেজমিনে ছত্তরুয়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায় উৎসবমুখর কর্মব্যস্ততা। কেউ মাটি প্রস্তুত করছেন, কেউ নিপুণ ছোঁয়ায় চাকে তৈরি করছেন হাঁড়ি-পাতিল, কলস, শোপিস কিংবা ঘর সাজানোর নানা তৈজসপত্র। শিশুদের প্রধান আকর্ষণ মাটির ব্যাংক, বাঁশি, খেলনা ঘোড়া, টিয়া, মাছ ও দোয়েলসহ হরেক রকম মাটির পুতুল তৈরিতে ব্যস্ত একদল। অন্য দল ব্যস্ত রোদে শুকানো এবং চুলায় পুড়িয়ে পণ্যগুলোকে টেকসই করতে। সবশেষে শিল্পীরা রঙের আলপনায় মাটির অঙ্গে ফুটিয়ে তুলছেন নান্দনিক কারুকাজ।

​মৃৎশিল্পী মনিবালা পাল বলেন, “পূর্বপুরুষের আমল থেকে আমরা এই পেশা ধরে রেখেছি। পেটের দায়ে কষ্ট করলেও বৈশাখী মেলার সময়টা আমাদের মনে নতুন আশার সঞ্চার করে। এই সময়ে বিক্রির চাপ বেশি থাকে বলে আমরা পরিবারের সবাই মিলে কাজ করি।”

​তবে পেশাটি এখন চ্যালেঞ্জের মুখে বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দা রাজন পাল। তিনি বলেন, “মৃৎশিল্পের প্রধান উপকরণ এঁটেল মাটি এখন সহজলভ্য নয়। দূর থেকে মাটি আনতে গিয়ে খরচ অনেক বেড়ে যাচ্ছে। এছাড়া প্লাস্টিক ও আধুনিক সরঞ্জামের দাপটে আমাদের এই শিল্প আজ অস্তিত্ব সংকটে।”

​ঐতিহ্যবাহী এই শিল্পকে বাঁচাতে সরকারি প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে ঋণ এবং আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। মৃৎপল্লীর লোকজনের দাবি, প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এই প্রাচীন লোকজ শিল্প আবারও নতুন প্রাণ ফিরে পাবে।

​এ বিষয়ে মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সোমাইয়া আক্তার জানান, “কুমারপাড়ার উন্নয়ন বা সমস্যার বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত আবেদন পাইনি। সংশ্লিষ্টরা যোগাযোগ করলে বা লিখিতভাবে জানালে মাটির সংকটসহ বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

​বাঙালির লোকজ ঐতিহ্যের ধারক এই মৃৎশিল্পকে টিকিয়ে রাখতে এবারের বৈশাখী মেলা যেন নতুন সম্ভাবনা নিয়ে আসে—এমনটাই প্রত্যাশা মিরসরাইয়ের কুমোরপাড়ার বাসিন্দাদের।

Development by: webnewsdesign.com