বন্দরনগরী চট্টগ্রামের রাজপথ থেকে অলিগলি—সর্বত্রই এখন মাথার ওপর বিপজ্জনকভাবে দুলছে বৈদ্যুতিক, ইন্টারনেট ও ডিশ লাইনের তারের জঞ্জাল। যত্রতত্র ঝুলে থাকা এই তারের কুণ্ডলী কেবল নগরীর সৌন্দর্যই নষ্ট করছে না, বরং সাধারণ পথচারী ও যানবাহন চলাচলের ক্ষেত্রে তৈরি করছে প্রাণঘাতী ঝুঁকি।
নগরীর অন্যতম ব্যস্ততম নিউ মার্কেট এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে শুরু করে সড়ক বিভাজকের গাছ ও বিভিন্ন বাণিজ্যিক ভবনের সামনে মাকড়সার জালের মতো পেঁচিয়ে আছে শত শত তার। কোথাও তার ছিঁড়ে নিচে পড়ে আছে, আবার কোথাও এত নিচু হয়ে ঝুলছে যে পথচারীদের গায়ে লাগছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সামান্য বৃষ্টি বা ঝড়ো হাওয়া বইলেই এসব তারে শর্ট সার্কিট হয়ে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত ঘটে।
এলাকার নিয়মিত পথচারী মো. রাশেদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এই রাস্তা দিয়ে হাঁটা এখন আতঙ্কের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাথার ওপর তারের যে অবস্থা, যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”
আরেক বাসিন্দা ফারজানা আক্তার জানান, অনেক জায়গায় তার ছিঁড়ে রাস্তার ওপর পড়ে থাকে। অবুঝ শিশু বা অসতর্ক পথচারীরা বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। তিনি দ্রুত এসব তার অপসারণের দাবি জানান।
নগর পরিকল্পনাবিদ স্থপতি আশিক ইমরান এই পরিস্থিতির জন্য সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতাকে দায়ী করেছেন।
তিনি বলেন, “উন্নত বিশ্বে ইউটিলিটি সেবাগুলো মাটির নিচ দিয়ে (আন্ডারগ্রাউন্ড) নেওয়া হয়। চট্টগ্রামে এখনো কার্যকর কোনো কেবল ব্যবস্থাপনা নীতিমালা বাস্তবায়ন না হওয়ায় পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।”
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন জানিয়েছেন, নগরীকে তারমুক্ত করতে ইতোমধ্যে একটি পাইলট প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা বড় ও মোটা কেবলগুলো ধাপে ধাপে ভূগর্ভস্থে স্থানান্তরের পরিকল্পনা করছি। এছাড়া সরু তার ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নীতিমালা অনুসরণ করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”
নগরবাসীর প্রত্যাশা, কেবল আশ্বাসে সীমাবদ্ধ না থেকে দ্রুত এই ‘মৃত্যুফাঁদ’ অপসারণে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে প্রশাসন।
Development by: webnewsdesign.com