ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ডে আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ (আইআইইউসি) সংলগ্ন এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী নিহতের পর অবশেষে নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটকসংলগ্ন দুর্ঘটনাস্থলে বসানো হয়েছে গতি নিরোধক (স্পিডব্রেকার)। একই সাথে অবৈধ পার্কিং ও সড়ক পরিবহন আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে পরিচালনা করা হয়েছে জোরালো ভ্রাম্যমাণ অভিযান।
​বুধবার (৪ নভেম্বর) দিনব্যাপী পরিচালনা করা এই যৌথ অভিযানে ১৫টি মামলায় মোট ৫৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ও হাইওয়ে পুলিশ।
​ঘটনার সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সীতাকুণ্ডের সোনাইছড়ি ইউনিয়নের কুমিরা এলাকায় মহাসড়কে একটি কনটেইনারবাহী লরি ও বাসের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের প্রভাবে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি মিনিবাস উল্টে গিয়ে নিচে চাপা পড়েন আইআইইউসির ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষার্থী মাইশা মুশফিরাত (২১)। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় মাইশা ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান এবং আহত হন আরও তিন শিক্ষার্থী।
​সহপাঠীর করুণ মৃত্যুর খবরে ক্ষোভে ফেটে পড়েন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তাঁরা নিরাপদ পারাপারে পদচারী-সেতু (ফুটওভার ব্রিজ) ও স্পিডব্রেকার নির্মাণসহ ছয় দফা দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক এবং সংলগ্ন রেলপথ অবরোধ করেন। টানা প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টার এই অবরোধে পুরো এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা স্তব্ধ হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পর্যায়ক্রমে সব দাবি বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন।
​আশ্বাস বাস্তবায়নের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে অবরোধ উঠার পরপরই প্রশাসনের তদারকিতে দুর্ঘটনাস্থলে গতি নিরোধক নির্মাণের কাজ শুরু হয়।
​এর পরদিন বুধবার সকাল ১১টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত সীতাকুণ্ডের কুমিরা এলাকায় অবৈধ পার্কিং, ফিটনেসবিহীন যান চলাচল ও ট্রাফিক আইন অমান্য রোধে যৌথ অভিযান পরিচালনা করে বিআরটিএ ও হাইওয়ে পুলিশ। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় ও স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় অভিযানে নেতৃত্ব দেন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট দীপক ত্রিপুরা। অভিযানকালে সড়ক পরিবহন আইনে ১৫টি মামলা দায়ের এবং ৫৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
​ম্যাজিস্ট্রেট দীপক ত্রিপুরা জানান, “মহাসড়কে শিক্ষার্থীসহ পথচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের কঠোর পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে। ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে কাউকে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।”
​প্রশাসনের এ ধরনের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপকে স্থানীয় বাসিন্দারা স্বস্তির চোখে দেখলেও মহাসড়কে দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তার জন্য শুধু স্পিডব্রেকার বা জরিপানাকেই চূড়ান্ত সমাধান মনে করছেন না তারা। সচেতন মহল ও অভিভাবকদের দাবি, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের নিরাপদ পারাপারে দ্রুত স্থায়ী ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ এবং মহাসড়কে চালকদের বেপরোয়া গতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর নজরদারি বজায় রাখতে হবে।