প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মোংলা সফরকে ঘিরে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে নতুন বিনিয়োগ, ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের আশা, মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি, নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে এ অঞ্চলের অর্থনীতিতে গতি আসবে।

বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে মোংলা হেলিপ্যাড থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন প্রধানমন্ত্রী। এর আগে তিনি সুন্দরবন, নৌবাহিনীর ঘাঁটি, মোংলা বন্দর জেটি এবং প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চলের বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করেন।

সফরকালে নৌবাহিনী, মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি। এ সময় সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মতে, মোংলা বন্দরের সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন হলে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বাড়বে। বন্দর চ্যানেলে নিয়মিত খনন, অসমাপ্ত জেটি নির্মাণ এবং কাস্টমস ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

ব্যবসায়ী হেমায়েত উদ্দিন বলেন, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে উন্নত অবকাঠামো প্রয়োজন। নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল চালু হলে বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। প্রস্তাবিত এলএনজি টার্মিনাল বাস্তবায়িত হলেও এ অঞ্চলে ব্যবসা সম্প্রসারণের সম্ভাবনা বাড়বে।

মোংলা বন্দর বার্থ ও শিপ অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. জুলফিকর আলীও বন্দরের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেন। তাঁর প্রত্যাশা, প্রধানমন্ত্রীর সফরের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের উন্নয়ন পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নে গতি আসবে।

এদিকে রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানিকারকদের সংগঠন বারভিডার সভাপতি আব্দুল হক আমদানি কার্যক্রমে বৈষম্য নিরসনের দাবি জানান। অন্যদিকে বাগেরহাট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি শেখ সাহেদ আলী রবি বন্দরের নাব্যতা বৃদ্ধি ও শুল্ক বিভাগের আধুনিকায়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে উপকূলীয় এলাকায় জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে কর্মসংস্থান হারানো মানুষের জন্য বিকল্প কাজের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।

প্রধানমন্ত্রীর সফরকে স্থানীয় বাসিন্দারা অর্থনৈতিক সম্ভাবনার নতুন বার্তা হিসেবে দেখছেন। তবে তাঁদের প্রত্যাশা পূরণে বন্দর সম্প্রসারণ, অর্থনৈতিক অঞ্চল ও এলএনজি টার্মিনালের মতো প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলোর অনুমোদন, অর্থায়ন এবং বাস্তবায়নে কার্যকর অগ্রগতি নিশ্চিত করা জরুরি।