ঢাকা
২০ জুন ২০২৬
সর্বশেষ
Advertise with us

রংপুর মেডিকেলে হামে আরও এক শিশুর মৃত্যু, ১৫ দিনে প্রাণ গেল তিনজনের

বাংলাদেশ মিডিয়া প্রতিবেদক
রবিবার, ০৩ মে ২০২৬   ১৫১ বার পঠিত
রংপুর মেডিকেলে হামে আরও এক শিশুর মৃত্যু, ১৫ দিনে প্রাণ গেল তিনজনের

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামে আক্রান্ত আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গত ১৫ দিনে এই হাসপাতালে হামে আক্রান্ত তিন শিশুর মৃত্যু হলো, যা জনস্বাস্থ্য নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

রোববার (৩ মে) দুপুরে হাসপাতালের শিশু বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আ ন ম তানভীর চৌধুরী (নোমান) বিষয়টি নিশ্চিত করেন।তিনি জানান, মারা যাওয়া শিশুটির নাম হাসান,বয়স আট মাস। রোববার সকাল সাতটার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এর আগে রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন থাকা জাকির নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।শুক্রবার (১ মে) রাতে হাসপাতালের শিশু বিভাগের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ২২ মাস বয়সী ওই শিশুর মৃত্যু হয়। জাকির কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুরের সবুজ মিয়ার ছেলে। গত ৩০ এপ্রিল রাতে হামের উপসর্গ থাকা এ শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।

এর আগে,গত ১৭ এপ্রিল একই হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া সাত মাস বয়সী তানজিদ নামে আরেক শিশুর মৃত্যু হয়েছিল।ফলে সাম্প্রতিক সময়ে হামের উপসর্গে অন্তত তিন শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে, যা স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টদের মধ্যে বাড়তি উদ্বেগ তৈরি করেছে।

চিকিৎসক আ ন ম তানভীর চৌধুরী (নোমান)জানান,হাসান,বয়স আট মাস বয়সের“শিশুটির অবস্থা প্রথম দিকে স্থিতিশীল ছিল। তবে শনিবার রাতে খাওয়ানোর পর হঠাৎ তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। পরে সব চেষ্টা সত্ত্বেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।”

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মারা যাওয়া শিশুটির বাড়ি লালমনিরহাট সদর উপজেলার হারাটি ইউনিয়নের সাপ্টিবাড়ি এলাকায়।গত ২৮ এপ্রিল সন্ধ্যায় তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর থেকে হাসপাতালের ‘হাম কর্নার’-এ চিকিৎসাধীন ছিল সে।

শিশুটির বাবা রাকিব মিয়া জানান,পবিত্র ঈদুল ফিতরের পর থেকেই তার ছেলে অসুস্থ হয়ে পড়ে। প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং পরে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে কয়েকবার ভর্তি করা হয়েছিল। অবস্থার অবনতি হলে তাকে রংপুর মেডিকেলে নেওয়া হয়।

এদিকে হাসপাতালের সর্বশেষ তথ্যে দেখা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও আট শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। একই সময়ে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১২ শিশু। বর্তমানে হাসপাতালের হাম কর্নারে ভর্তি রয়েছে ৩৪ শিশু।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, এ পর্যন্ত অন্তর্বিভাগে মোট ১৭৬ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছে। এদের বেশিরভাগই শিশু হলেও বর্তমানে হাসপাতালে দুই নারী ও এক পুরুষও ভর্তি রয়েছেন, যাদের বয়স ১৮ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে।

চিকিৎসকেরা জানান, হামে আক্রান্ত রোগীরা সাধারণত জ্বর, শরীরে লাল ফুসকুড়ি, সর্দি ও কাশির মতো উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসছে। অনেক ক্ষেত্রে দেরিতে হাসপাতালে আনার কারণে জটিলতা বাড়ছে এবং ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম প্রতিরোধে টিকাদানই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় শিশুদের নিয়ে আসা না হলে এমন পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। পাশাপাশি আক্রান্তদের দ্রুত শনাক্ত করে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
Advertise with us