সমন্বিত উদ্যোগে কাজ করছে সরকার • সচেতন হতে হবে নগরবাসীকেও

ডিসেম্বরের মধ্যে চট্টগ্রামের ৮০-৯০% জলাবদ্ধতা কমবে: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী

রবিবার, ১৭ মে ২০২৬ | ৪:০৩ অপরাহ্ণ

ডিসেম্বরের মধ্যে চট্টগ্রামের ৮০-৯০% জলাবদ্ধতা কমবে: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী
apps

চট্টগ্রাম নগরের দীর্ঘদিনের অভিশাপ ‘জলাবদ্ধতা’ নিরসনে সরকারের সব সংস্থা এখন সমন্বিতভাবে কাজ করছে। চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই নগরের ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ জলাবদ্ধতা কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

​শনিবার (১৬ মে) বিকেলে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন। ১৯ সদস্যের নবগঠিত সমন্বয় কমিটির উদ্যোগে বিভিন্ন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের নিয়ে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

​সভায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী চান চট্টগ্রামের মানুষ জলাবদ্ধতার কষ্ট থেকে স্থায়ী মুক্তি পাক। শতভাগ সমাধানের নিশ্চয়তা এখনই না দিলেও, আমরা লক্ষ্য অর্জনে দৃঢ়ভাবে কাজ করছি।” তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সম্প্রতি তিনি চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা, খাল খনন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনার চলমান কাজ সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন এবং মেয়রের নেতৃত্বে গঠিত শক্তিশালী কমিটি ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করেছে।

​চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতাকে ‘অত্যন্ত ভয়াবহ’ ও প্রযুক্তিগতভাবে জটিল উল্লেখ করে মীর শাহে আলম বলেন, ভৌগোলিক অবস্থান, জোয়ার-ভাটার প্রভাব এবং অতিবৃষ্টির কারণে এই সমস্যাটি সাধারণ ড্রেনেজ ব্যবস্থার চেয়ে ভিন্ন। এ কারণে বিভিন্ন খালের মুখে আধুনিক স্লুইস গেট নির্মাণ করা হয়েছে, যা জোয়ার-ভাটার পানির চাপ অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে খুলবে ও বন্ধ হবে। এছাড়া খালের পাড়ে ওয়াকওয়ে নির্মাণ এবং ময়লা-আবর্জনা ঠেকাতে নেটিং ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।

​তিনি নৌপরিবহন, ভূমি, পরিকল্পনা ও অর্থ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিদের নিয়ে খালের মুখে ড্রেজিং ও পরিষ্কার কার্যক্রম নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছেন বলেও জানান।

সভায় উপস্থিত ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, “শুধু খাল খনন, ড্রেজিং বা রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না; নাগরিকদের সামাজিক সচেতনতাও জরুরি।” তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পরিচ্ছন্নতা অভিযানে খাল থেকে তোশক, চেয়ার, টেবিল, পলিথিন ও স্বাস্থ্যবর্জ্য পর্যন্ত উদ্ধার হচ্ছে। এছাড়া নির্মাণাধীন ভবনের বালু ও বর্জ্য ড্রেনে ফেলার কারণে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

​নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান বলেন, চট্টগ্রাম নগরের অধিকাংশ পানি নিষ্কাশনের পথ বন্দর এলাকা হয়ে কর্ণফুলী নদী ও সাগরে মিশেছে। তাই বন্দর এলাকায় পানি চলাচলের পথ সচল রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কর্ণফুলী নদীকে দেশের অর্থনৈতিক ‘লাইফলাইন’ উল্লেখ করে তিনি নদী রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, খাল পরিষ্কারের পরপরই আবার আবর্জনা ফেলা হচ্ছে, যা পানি প্রবাহ ব্যাহত করার পাশাপাশি মশার উপদ্রব বাড়াচ্ছে।

​সভায় সভাপতির বক্তব্যে চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, সাম্প্রতিক বৈশাখী ঝড় ও টানা বৃষ্টিতে চট্টগ্রামের কয়েকটি এলাকায় সাময়িক যে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে, তা মূলত চলমান উন্নয়নকাজের কারণেই হয়েছে। কাজগুলো শেষ হলে নগরবাসী এর সুফল পাবেন।
​সভায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম নগরবাসীকে নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলার অনুরোধ জানান এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত সিটি করপোরেশনকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান। একই সাথে এ বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে সাংবাদিকদেরও অগ্রণী ভূমিকা রাখার অনুরোধ করা হয়।

Development by: webnewsdesign.com