মুহূর্তেই শেষ সব: বান্দরবান বাঘমারা বাজারে আগুনে পুড়ল ৫০ পরিবার ও ব্যবসায়ীর স্বপ্ন

রবিবার, ১৭ মে ২০২৬ | ২:১৩ অপরাহ্ণ

মুহূর্তেই শেষ সব: বান্দরবান বাঘমারা বাজারে আগুনে পুড়ল ৫০ পরিবার ও ব্যবসায়ীর স্বপ্ন
apps

বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলার জামছড়ি ইউনিয়নের বাঘমারা বাজারে গভীর রাতে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে বাজারের অন্তত ৫০টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক ধারণা, এই অগ্নিকাণ্ডে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কয়েক কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।

​শনিবার (১৭ মে) দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়।

​স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গভীর রাতে হঠাৎ করেই বাজারের একটি অংশে আগুনের লেলিহান শিখা দেখতে পান তারা। মুহূর্তের মধ্যে আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে স্থানীয় একটি মসজিদের মাইক থেকে তাৎক্ষণিক ঘোষণা দিয়ে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়। ঘুম ভেঙে স্থানীয় জনতা ছুটে এসে আগুন নেভানোর আপ্রাণ চেষ্টা চালান। কিন্তু বাজারের অধিকাংশ স্থাপনা বাঁশ ও কাঠের তৈরি হওয়ায় আগুন চোখের পলকে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে স্থানীয়দের পক্ষে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।

​খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় রোয়াংছড়ি ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট। ফায়ার ফাইটার ও স্থানীয় জনতার যৌথ প্রচেষ্টায় প্রায় তিন ঘণ্টার দীর্ঘ অভিযানের পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে ততক্ষণে বাজারের অর্ধশতাধিক দোকান ও তার পেছনে থাকা বসতঘর পুড়ে সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়।
​রোয়াংছড়ি ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ জানায়, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও স্থাপনাগুলো কাঁচা হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির তীব্রতা বেশি হয়েছে। তবে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। শর্ট সার্কিট নাকি অন্য কোনো উৎস থেকে আগুনের সূত্রপাত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কয়েক কোটি টাকা।

​আজ রবিবার সকালে সরেজমিনে বাঘমারা বাজারে গিয়ে দেখা যায় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। পুরো বাজারজুড়ে এখন শুধু পোড়া কাঠ আর টিনের স্তূপ। আগুনে দোকানের ভেতরের মালামাল ও বসতঘরের আসবাবপত্রসহ কোনো কিছুই রক্ষা করা যায়নি। সব হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ এখন খোলা আকাশের নিচে নির্বাক দাঁড়িয়ে আছেন।

​ক্ষতিগ্রস্ত একাধিক ব্যবসায়ী ক্ষোভ ও বিলাপ করে বলেন, ফায়ার সার্ভিস আসার আগেই তাদের জীবিকার শেষ সম্বলটুকু আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এখন পরিবার-পরিজন নিয়ে কীভাবে ঘুরে দাঁড়াবেন, তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তারা।

Development by: webnewsdesign.com