মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার ইছাছড়া পুঞ্জির খাসিয়া পানচাষির ১২ শতাধিক পানগাছ কর্তনের প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দুপুরে কুলাউড়া পৌর শহরে কুবরাজ আন্তঃপুঞ্জি উন্নয়ন সংগঠনের আয়োজনে বিভিন্ন পুঞ্জির লোকজন মানববন্ধন কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ করে অংশগ্রহণ করেন।
কুবরাজ সংগঠনের সভাপতি প্রত্যুষ আশাক্রার সভাপতিত্বে এবং মেঘাটিলা পুঞ্জির প্রধান মনিকা খংলা ও মানবাধিকার কর্মী হীরামন তালাংয়ের যৌথ সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন, কুলাউড়া সরকারি ডিগ্রি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সৌম্য প্রদীপ ভট্টাচার্য সজল, বাংলাদেশ জাসদের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মইনুল ইসলাম শামীম, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম মৌলভীবাজার জেলা শাখার সভাপতি ফ্লোরা বাবলী তালাং, সহসভাপতি নারায়ণ কুর্মী, বৃহত্তর সিলেট আদিবাসী অধিকার সুরক্ষা নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব এডভোকেট মো. আবুল হাসান, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের কেন্দ্রীয় সদস্য রিপন বানাই, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম মৌলভীবাজার জেলা শাখার সহসাধারণ সম্পাদক হিরন্ময় সিংহ, কুলাউড়া উপজেলা কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক মাহবুব করিম মিন্টু, ইউপি সদস্য সিলভেষ্টার পাঠাং, ঝিমাই পুঞ্জির হেডম্যান রানা সুরং, সিঙ্গুর পুঞ্জির ববিতা ডিও প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, কর্মধা ইউনিয়নের ইছাছড়া জুমে গত ২৮ মার্চ (শনিবার) গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা পরিকল্পিতভাবে পানচাষি অনন্ত ও সরিস লামারাই দম্পতির প্রায় ১২ শতাধিক পানগাছ কেটে ফেলে। যার বাজারমূল্য প্রায় ১২ লক্ষ টাকা। ইছাছড়া খাসিয়া পুঞ্জিতে ৪৬টি আদিবাসী পরিবারের একমাত্র জীবিকা এই পান চাষ। ইতিপূর্বে কুলাউড়া থানায় অভিযোগ দায়ের করা হলেও এখন পর্যন্ত অপরাধীদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
মানববন্ধনে বক্তারা আরও বলেন, এই ধ্বংসযজ্ঞ কেবল একজন চাষির ক্ষতি নয়, বরং একটি জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকার ওপর আঘাত। বক্তারা দুর্বৃত্তদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনা এবং ক্ষতিগ্রস্তদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দাবী করেন।
পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
Development by: webnewsdesign.com