কুড়িগ্রামে বোনদের জমির ধান কাটতে দিবে না ভাইয়েরা

উত্তপ্ত পরিস্থিতি থানায় অভিযোগ 

বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬ | ৫:২৭ অপরাহ্ণ

কুড়িগ্রামে বোনদের জমির ধান কাটতে দিবে না ভাইয়েরা
apps

কুড়িগ্রাম শহরের কৃষ্ণপুর চড়ুয়াপাড়া গ্রামে পিতার লিখে দেয়া জমি ফেরৎ না দিলে বোনদের জমির ধান কাটতে দিবে না ভাইয়েরা; উত্তপ্ত পরিস্থিতি সামাল দিতে সদর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

গত সোমবার (২৭ এপ্রিল) অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঘটনাস্থলে তদন্তে আসা কুড়িগ্রাম সদর থানার এএসআই মারফৎ জানা যায়, গত ২৫ এপ্রিল কুড়িগ্রাম সদর থানায় নার্গিছ বেগমের দায়েরকৃত অভিযোগে বলেন, উল্লিখিত গ্রামের ৯৩ বছর বয়সের তার পিতা বৃদ্ধ নছিয়ত উল্যাহর ৪ মেয়ে- নাজমা বেগম(৫৯), লাইলী বেগম(৫৫), লাভলী বেগম(৫৩), নার্গিছ বেগম(৪৪) এবং ৩ ছেলে মৃত: গোলাম রব্বানি(৬৩), গোলাম মোস্তফা(৬১) এবং মিজানুর রহমান(৫৭)-এর মধ্যে বিগত ২০১৮ ইং সালের ৭ অক্টোবর তারিখে ৫৪১০ নং সাব রেজিস্ট্রি দলিল মূলে ৪৭ শতক জমি নার্গিস বেগম, লাভলী বেগম ও নাজমার নামে লিখে দেয়।

উক্ত লিখিত জমি তারা ভোগ দখল করে চাষাবাদ করে আসছিলো। চলতি বোরোধান মৌসুমে উক্ত ভোগ দখলকৃত জমিতে ধান রোপন করেন তারা। ধানগাছ বড় হতে থাকলে জমিতে পানি দিতে গেলে সে সময় ভাই এবং ভাইয়ের পরিবারের অন্য লোকজন বাধা দিতো। এরই মধ্যে গত ১৩ এপ্রিল বেলা ১২টার দিকে অভিযোগকারীর পুত্র নাহিদ ইসলাম(২৬) জমিতে পানি দিতে গেলে নাহিদকে গালিগালাজ করে জমি থেকে তাড়িয়ে দেয়া হয়।

পরে বিকেল ৪টায় অভিযোগকারী নার্গিছ এবং অপর বোন নাজমা জমির ধানক্ষেত দেখতে গেলে অভিযোগকারীর ভাই এবং ভাইয়ের পরিবারের লোকজন দলবদ্ধ হয়ে জমি থেকে তাড়িয়ে দেয় এবং হুমকি প্রদান করে যে বাবার জমি ফেরৎ রেজিস্ট্রি করে না দিলে জমি আমরা দখল করবো, ধান কেটে নিয়ে যাবো, জমিতে নামলে জীবন শেষ করে দিব। আমাদের পাকা ধান কাটতে দেয়া হচ্ছে না। এজন্য আমরা থানায় অভিযোগ করে আইনগত সু-বিচার চেয়েছি।

জমির ধান পেকেছে। আর মাত্র কয়েকদিনের মধ্যে ধান না কাটলে ধান গুলো নষ্ট হবে। ওই জমির ফসলই আমাদের আগামী দিনের সম্বল। আমরা বোনেরা অতি কষ্টে জীবন-যাপন করি। আমাদের বাঁচান। এমন আবেদন করে বোনদের মধ্যে অভিযোগকারী নার্গিছ বেগম অবশেষে ভাই গোলাম মোস্তফা এবং তার স্ত্রী লিপা বেগম, গোলাম রব্বানীর পুত্র আনোয়ার হোসন(৩৬) ও আতা মিয়া(৩৪) এবং ভাই মিজানুর এবং তার স্ত্রী আরিফা বেগম(৩৮) -এর বিরুদ্ধে কুড়িগ্রাম সদর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে কুড়িগ্রাম সদর থানার এএসআই সোহেল রানা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এবং কোন সুরহা করতে পারেননি। পরে বিষয়টি সদর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জকে দায়িত্ব দেয়া হয়।

সরেজমিনে গেলে অভিযোগকারী জানান, তার বৃদ্ধ পিতা নছিয়ত উল্যাহ তার আবাদি জমি থেকে মেয়েরা যতটুকু অংশ পায় তার থেকে কিছু জমি তিন মেয়েকে রেজিস্ট্রি মূলে লিখে দেন। বিষয়টি ভাইয়েরা মেনে নেয়নি।

অন্য বোনেরাও জানায়, তাদের ভাইয়েরা বাবার লিখে দেয়া ওই আবাদি জমি পূনঃরায় রেজিস্ট্রি মূলে ফেরৎ চায়। বোনদের দাবি ওই জমি আমাদের বোনদের হক। আমরা বাবার সমগ্র জমি থেকে আরও অংশ পাই। আমাদের এক বোনের পুরো অংশ ভাইয়েরা ভোগদখল করে খাচ্ছে। আমাদের প্রতি অন্যায় করা হচ্ছে। আমরা আইনগত ভাবেই বিচার চাই। ধান কাটাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

ওই এলাকার স্থানীয় অনেকে জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন থেকে বোনেরা ওই জমি চাষাবাদ করে ভোগ দখল করে আসছে। ভাইরা এটা মানছে না। কোন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটার পূর্বেই আইনগত সুবিচার হওয়া উচিত। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও অভিযুক্তদের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ ব্যাপারে কুড়িগ্রাম সদরের ফাঁড়ি ইনচার্জ রাজু আহমেদ সরেজমিনে তদন্ত করে জানান, আমাদের কিছু করার নেই। যেহেতু ভাইবোনদের মধ্যে জমিজমা নিয়ে দ্বন্দ্ব এজন্য বিষয়টি সুরাহার জন বিজ্ঞ আদালতে নন অ্যাফেয়ার প্রসিকিউশন দাখিল করা হবে। এবং বিষয়টি নিয়ে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য দুই পক্ষকে বলা হয়েছে। অন্যথায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

Development by: webnewsdesign.com