ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শাপলা বিল থেকে বালু তুলে ফসলি জমি ভরাট

শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬ | ৮:৪৬ অপরাহ্ণ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শাপলা বিল থেকে বালু তুলে ফসলি জমি ভরাট
apps

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার গোকর্ণ মৌজার শাপলা বিল থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করে সরাইল উপজেলার শাহজাদাপুর ৪০ বিঘা ফসলি জমি ভরাট করা হচ্ছে। শাহজাদাপুর স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছুদিন পরে ধান কাটা শুরু হবে কিন্তু ড্রেজার পাইবের বালুর কারণে আশেপাশে জমির ধান নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

বালু উত্তোলন বন্ধ করে সরাইল উপজেলার শাহজাদাপুরের কৃষি জমি রক্ষার জন্য এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে সাব্বির নাম এক ব্যক্তি গত ২৫ মার্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সরাইল উপজেলার শাহজাদাপুর গ্রামের নিকটস্থ শাপলা বিলে ড্রেজার দিয়ে অপরিকল্পিত ভাবে বালু উত্তোলন করায় ধানের জমির মারাত্নক ক্ষতি হচ্ছে। এলাকাবাসী বাধা দিও কাজ হচ্ছে না। যার ফলে জমি গুলো গর্তের মধ্যে বিলিন হয়ে যাচ্ছে। এতে খাদ্য সংকট দেখা দিবে। শাপলা বিল খনন কাজে নামধারী কিছু এলাকার দুস্কৃতিকারী একটি সিন্ডিকেট ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ বিঘা জমিতে বালু স্টক করে আসছেন। কেহ বাধা দিলে তাদের জীবন যে কোন সময় বিপন্ন হতে পারে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, নাসিরনগর উপজেলার গোকর্ণ মৌজার শাপলা বিল থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করে সরাইল উপজেলার শাহজাদাপুর ৪০ বিঘা কৃষি জমি গভীরভাবে খনন করে বালু দিয়ে তা আবার ভরাট করা হচ্ছে। ড্রেজার দিয়ে বালু ভরাট করার সময় আসপাশের ফসলি জমিতে সেই বালু গিয়ে তা ফসল আবাদ অযোগ্য হয়ে পরছে।

এ কাজে দায়িত্ব থাকা রয়েল মিয়া বলেন, আমরা যাদের জমিতে মাটি ভরাট করছি তাদেরকে সাথে নিয়ে আব্দুল হক মেম্বার, রমিজ আলী ভাইসহ ওয়ার্ডের সবাই এরআগে মিটিং করেছি। এখানে কোন সিন্ডিকেট নাই, বিল খনন হলে শাহজাদাপুর মানুষের উন্নয়ন হবে। আর যাদের জমি নষ্ট হয়েছে তারা সেইচ্ছাই দিয়েছে ১০ টাকার জায়গায় ৪০ টাকা নিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এই কাজের মূলত মালিক লেভিট বাবুলভাই সহ আরো অনেকই। শাপলা বিলটি খনন করার জন্য তিতাস মৎস্যজীবী সমিতির মাধ্যমে অনুমতি আনা হয়েছে। অনুমতি কাগজ দেখতে চাইলে সাংবাদিকদের দেখাতে পারেন নাই রয়েল।

সরাইল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা একরাম হোসেন বলেন, শাহজাদাপুর কৃষি জমি ভরাট হয়ে গেলে কৃষি উৎপাদনে বড় ধরনের বাঁধার সম্মুখীন হবে কৃষি বিভাগ, কৃষি জমিতে বালু ভরাটের বিষয়ে আমরা কিছু জানি না, বিস্তারিত জেনে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করব।

এ বিষয়ে সরাইল উপজেলা ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা ও নাসিরনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহীনা নাছরিনকে বিষয়টি অবগত করলে তিনি তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে বালু ভরাট কাজ বন্ধ করে দেয়।

এদিকে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধ হওয়াতে স্থানীয়রা প্রশংসা করছেন ইউএনও মহোদয় কে।

Development by: webnewsdesign.com