বাগেরহাট জেলা পরিষদে প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ

৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন

সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬ | ৮:২৭ অপরাহ্ণ

বাগেরহাট জেলা পরিষদে প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ
apps

বাগেরহাট জেলা পরিষদ-এর বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে কাজ না করেই অথবা নামমাত্র কাজ দেখিয়ে অর্থ উত্তোলনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয়ে জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত প্রশাসক ব্যারিস্টার শেখ মো. জাকির হোসেন জানিয়েছেন, অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, জেলা পরিষদের অধীনে আরএফকিউ (RFQ) দরপত্র বিজ্ঞপ্তি নং-০২/২০২৫-২৬-এর আওতায় ৬টি প্যাকেজে প্রায় ৬৫ লাখ ৭৫ হাজার টাকার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এসব প্রকল্পের মধ্যে চিতলমারী, ফকিরহাট, কচুয়া ও রামপাল ডাকবাংলোর কক্ষ আধুনিকায়ন, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবন মেরামত ও আসবাবপত্র সরবরাহ, অফিস কক্ষ সংস্কার ও রং করার কাজ অন্তর্ভুক্ত ছিল।

দরপত্র অনুযায়ী কাজ শুরুর তারিখ ছিল ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ এবং শেষ হওয়ার কথা ছিল ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬। তবে অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত সময়ের আগেই তড়িঘড়ি করে কাজ সম্পন্ন দেখিয়ে বিল প্রস্তুত ও চেক ইস্যু করা হয়, এমনকি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র দুই দিন আগে কাজ শেষ দেখানো হয়।

অভিযোগে বলা হয়, ৬টি প্যাকেজের মধ্যে অন্তত ৩টির কাজ না করেই অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে। বাকি ৩টির ক্ষেত্রে নামমাত্র কাজ দেখিয়ে চেক প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। এ ঘটনায় জেলা পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী মো. শহিদুল আলমসহ কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

সরেজমিনে রামপাল ডাকবাংলো পরিদর্শনে দেখা যায়, আধুনিকায়নের নামে সামান্য কিছু সংস্কার ও রংয়ের কাজ ছাড়া তেমন কোনো উন্নয়ন হয়নি। একইভাবে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার অফিস কক্ষ আধুনিকায়নের কাজ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবু রিয়াদ নিজেও একটি ক্ষেত্রে কাজ না হওয়ার বিষয় স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে রামপাল প্রেসক্লাব-এর সভাপতি এম এ সবুর রানা বলেন, “আধুনিকায়নের নামে যা করা হয়েছে, তা নামমাত্র। জনগণের অর্থ আত্মসাতকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।”

এছাড়া নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ঠিকাদার অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে কিছু অসাধু কর্মকর্তা নিজেদের পছন্দের ঠিকাদারদের মাধ্যমে কাজ না করেই অর্থ উত্তোলন করছেন। এতে প্রকৃত ঠিকাদাররা বঞ্চিত হচ্ছেন এবং সরকারি অর্থের অপচয় হচ্ছে।

এ বিষয়ে প্রশাসক ব্যারিস্টার শেখ মো. জাকির হোসেন আরও বলেন, তদন্ত কমিটির প্রধান হিসেবে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবু রিয়াদকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Development by: webnewsdesign.com