মাদক দিয়ে ফাঁসানোর অপচেষ্টা, জমির টাকা হাতাতে আটক ৪

বুধবার, ২০ মে ২০২৬ | ৪:৫৯ অপরাহ্ণ

মাদক দিয়ে ফাঁসানোর অপচেষ্টা, জমির টাকা হাতাতে আটক ৪
apps

রংপুর নগরীর ধাপ কটকিপাড়া এলাকায় এক কর্মজীবী নারীকে মাদক দিয়ে ফাঁসিয়ে জমি বিক্রির টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে চার যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযুক্তরা ঘরে ইয়াবা থাকার নাটক সাজিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা আদায়ের চেষ্টা করে বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ ও ধাপ ফাঁড়ি পুলিশের অভিযানে ঘটনাটির রহস্য উদঘাটিত হয়।

বুধবার (২০ মে) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ। এর আগে মঙ্গলবার রাতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন-মিনহাজ আহমেদ (২৮), মহিম হাসান (২৫), শাহরিয়ার সরকার (২৮) ও আব্দুল মজিদ (২০)। তাদের সবার বাড়ি নগরীর ধাপ কটকিপাড়া এলাকায়।

পুলিশ ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী ওই নারী নগরীর একটি কারুপণ্য প্রতিষ্ঠানের আলমনগর কারখানায় কর্মরত। সম্প্রতি তিনি তিন লাখ ৬০ হাজার টাকায় একটি জমি বিক্রি করেন। মঙ্গলবার বিকেলে সেই টাকা ব্যাংকে জমা রেখে ধাপ কটকিপাড়ার ভাড়া বাসায় ফেরেন তিনি।

অভিযোগ রয়েছে, সন্ধ্যার পর স্থানীয় কয়েকজন যুবক জোরপূর্বক তার বাসায় প্রবেশ করে। তারা নিজেদের প্রভাব খাটিয়ে ঘরে মাদকদ্রব্য রয়েছে দাবি করে তল্লাশি শুরু করে। একপর্যায়ে বিছানার তোষকের নিচে ইয়াবা পাওয়া গেছে বলে দাবি তোলে তারা। পরে বিষয়টি ‘মীমাংসা’ করার কথা বলে টাকা দাবি করা হয়।

ভুক্তভোগী টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ ওঠে।একই সঙ্গে তার ব্যাংকের চেকবইয়ের কয়েকটি পাতাও নিয়ে নেওয়া হয়। জমি বিক্রির টাকার সন্ধানে ঘরের আসবাবপত্র, কাপড়চোপড় ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র তছনছ করা হয় বলেও জানান তিনি।

পরিস্থিতি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় বাড়ির মালিক গোপনে পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ কমিশনারের নির্দেশনায় মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল এবং ধাপ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে তদন্তে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য।

পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া ইয়াবা সাদৃশ বস্তুগুলো প্রাথমিক পরীক্ষায় ভুয়া বলে প্রতীয়মান হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওই নারীকে মাদক মামলায় ফাঁসিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই এ নাটক সাজানো হয়েছিল।

এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করে দ্রুত বিচার আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই ধরনের প্রতারণা চক্রের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা রয়েছে কিনা তাও তদন্ত করা হচ্ছে।তবে তাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও প্রতারণায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এ বিষয়ে পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ জানান, “সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে, মাদক দিয়ে ফাঁসানোর নাটক সাজিয়ে কিংবা প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা কোনো ভাবেই বরদাশত করা হবে না। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া এবং নিরীহ মানুষকে হয়রানি করার বিরুদ্ধে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ সবসময় কঠোর অবস্থানে রয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, নগরীতে কেউ এ ধরনের প্রতারণা বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের শিকার হলে দ্রুত পুলিশকে জানানোর আহ্বান জানানো হচ্ছে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মহানগর পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলেও জানান তিনি।

Development by: webnewsdesign.com