বাঘায় এক ট্রাক জিরা লুটের অভিযোগে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে মামলা

বুধবার, ১৩ মে ২০২৬ | ৪:১৪ অপরাহ্ণ

বাঘায় এক ট্রাক জিরা লুটের অভিযোগে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে মামলা
apps

রাজশাহী জেলার বাঘা উপজেলায় এক ট্রাক (৩০০) বস্তা জিরা লুটের অভিযোগে বিএনপির এক নেতাসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার (১ত মে) রাতে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. ফেরদৌস সরদার বাদী হয়ে বাঘা থানায় মামলাটি করেন।

এর আগে গত ৬ মে আড়ানী পৌরসভা এলাকায় ডেকে এনে পাবনার এক পাইকারি ব্যবসায়ীর ৩০০ বস্তা জিরা লুটের অভিযোগ ওঠে। ঘটনার পর ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী থানায় লিখিত অভিযোগ দিলেও মীমাংসার আশ্বাস দিলে মামলা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে মঙ্গলবার রাতে আনুষ্ঠানিক ভাবে মামলা রেকর্ড করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাঘা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)।

মামলার প্রধান আসামি করা হয়েছে, আড়ানী পৌরসভা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সুজাত আহম্মেদকে (৫৫)। অন্য আসামিরা হলেন তাঁর ভাই মো. জাহাঙ্গীর হোসেন (৪৫), ভাগনে মো. সুইট (২৫) ও মো.শান্ত (২৮)।

মামলার বাদী ফেরদৌস সরদার পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলার চর চিনাখড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি আমদানিকৃত পণ্য পাইকারি বিক্রির ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তাঁর ভাষ্য, রাজশাহীর গোদাগাড়ীর ব্যবসায়ী সিনারুল ইসলামের মাধ্যমে আসামিরা ৩০০ বস্তা জিরা কেনার জন্য যোগাযোগ করেন।
চুক্তি অনুযায়ী, গত ৬ মে ভোরে পাবনা থেকে একটি ট্রাকে ৯ হাজার কেজি জিরা আড়ানীতে পাঠানো হয়। প্রতি কেজি ৫৫০ টাকা হিসেবে এসব জিরার মূল্য প্রায় ৪৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

অভিযোগে বলা হয়, সকাল আটটার দিকে ট্রাকটি আড়ানীতে পৌঁছালে ১৫০ বস্তা জিরা একটি ভটভটিতে এবং বাকি ১৫০ বস্তা সুজাত আহম্মেদের গুদামে নামানো হয়। টাকা চাইলে ক্রেতাপক্ষ পূবালী ব্যাংকের সই করা একটি ফাঁকা চেক দেয়। পরে নগদ ২৫ লাখ টাকা দেখানো হলেও তা বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। বাকি টাকা ব্যাংক খোলার পর চেক জমা দিয়ে পাওয়া যাবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়।মধ্যস্থতাকারী ব্যবসায়ী সিনারুল ইসলাম জানান, পরে গুদামে গিয়ে

দেখা যায় সেখানে রাখা জিরার বস্তাগুলো সরিয়ে ফেলা হয়েছে। ব্যাংকে গিয়ে চেকের বিপরীতে কোনো অর্থ না থাকায় প্রতারণার বিষয়টি স্পষ্ট হয়। এরপর টাকা চাইলে নানা টালবাহানা শুরু করে। একপর্যায়ে তাঁকে একটি চায়ের দোকানের পেছনে নিয়ে চাকুর ভয় দেখিয়ে চেকটি ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

ঘটনার পরদিন ভোরে বাঘা থানায় অভিযোগ দেওয়া হলে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায়। পরে আড়ানী পৌর বিএনপির সভাপতি তোজাম্মেল হকের মধ্যস্থতায় ১১০ বস্তা জিরা উদ্ধার করা হয়। পরে আরও ৬৫ বস্তা জিরা উদ্ধার করা হলেও বাকি জিরা বা টাকার কোনো হদিস মেলেনি।

এ বিষয়ে আড়ানী পৌর বিএনপির সভাপতি তোজাম্মেল হক বলেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগ নিয়ে ১৭৫ বস্তা জিরা উদ্ধার করে দিয়েছেন। এরপর ভুক্তভোগীদের আইনের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

aঅভিযুক্ত সুজাত আহম্মেদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এর আগে তিনি দাবি করেছিলেন, তাঁর ভাগনেরা জিরা কিনেছিল এবং বিষয়টি মীমাংসা হয়ে গেছে।

Development by: webnewsdesign.com