চট্টগ্রামে মশাবাহিত বিরল রোগ ‘জাপানিজ এনসেফালাইটিস’ আতঙ্ক

সিভাসু শিক্ষিকার মৃত্যু

শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬ | ৯:৪০ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রামে মশাবাহিত বিরল রোগ ‘জাপানিজ এনসেফালাইটিস’ আতঙ্ক
apps

​চট্টগ্রামে কিউলেক্স মশাবাহিত বিরল রোগ ‘জাপানিজ এনসেফালাইটিস’-এর উপসর্গ নিয়ে এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষিকার মৃত্যু হয়েছে। মৃত ড. জাকিয়া সুলতানা জুথি চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস ইউনিভার্সিটির (সিভাসু) ফুড প্রসেসিং অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন। বিরল এই রোগের উপসর্গে প্রাণহানির ঘটনায় বন্দরনগরীসহ পুরো জেলায় নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ড. জাকিয়া সুলতানা সম্প্রতি বান্দরবান ভ্রমণে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে ফেরার তিনদিন পর, গত ৪ মে তার শরীরে প্রচণ্ড জ্বর, মাথাব্যথা ও বমি শুরু হয়। প্রাথমিক অবস্থায় সাধারণ ফ্লু মনে হলেও দ্রুত স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটলে তাকে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে অবস্থার আরও অবনতি হলে তাকে আইসিইউ ও পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসকদের মতে, ভাইরাসের প্রভাবে তার মস্তিষ্কে মারাত্মক জটিলতা সৃষ্টি হয়েছিল এবং তিনি ‘মাল্টিপল স্ট্রোকে’ আক্রান্ত হন। গতকাল বৃহস্পতিবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

মেট্রোপলিটন হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগের চিকিৎসক ডা. কাউসারুল আলম জানান, ভর্তির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রোগীর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে এবং মাল্টিপল স্ট্রোক হয়। অন্যদিকে, চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম জানান, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। মৃত শিক্ষিকা সপ্তাহখানেক আগে পাহাড়ি এলাকায় ভ্রমণে গিয়েছিলেন, তাই বিষয়টি নিশ্চিত হতে হাসপাতালের সব টেস্ট রিপোর্ট সংগ্রহ করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জাপানিজ এনসেফালাইটিস একটি কিউলেক্স মশাবাহিত ভাইরাস। সাধারণত শূকর বা বক জাতীয় প্রাণীর দেহ থেকে মশার মাধ্যমে এটি মানুষের শরীরে ছড়ায়। তবে এটি মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমিত হয় না। ধারণা করা হচ্ছে, পাহাড়ি এলাকায় ভ্রমণের সময় কোনো আক্রান্ত মশার কামড় থেকে তিনি সংক্রমিত হয়ে থাকতে পারেন।

জাপানিজ এনসেফালাইটিসের উপসর্গ থাকলেও চট্টগ্রামে এর সঠিক রোগ নিরূপণের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস (বিআইটিআইডি)-তে আরটিপিসিআর ব্যবস্থা থাকলেও প্রয়োজনীয় কিটের অভাবে এই রোগের পরীক্ষা সম্ভব হচ্ছে না।

​বিআইটিআইডি’র ক্লিনিক্যাল ট্রপিক্যাল মেডিনসিন বিভাগের প্রধান ডা. মামুনুর রশিদ জানান, এই রোগ নিরূপণ পদ্ধতি বেশ জটিল এবং এর জন্য বিশেষায়িত কিট প্রয়োজন যা বর্তমানে তাদের ল্যাবে নেই। দ্রুত রোগ শনাক্ত করা না গেলে এ ধরনের ‘ব্রেন অ্যাটাক’ ঠেকানো কঠিন হয়ে পড়ে।

​বিরল এই ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে মশা নিধন এবং সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। ড. জুথির অকাল মৃত্যুতে সিভাসু ক্যাম্পাসে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

Development by: webnewsdesign.com