বাগেরহাটের চিতলমারি উপজেলার শৈলদাহ এস ই এস ডি পি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে মারধর ও দুর্ব্যবহারের ঘটনার জেরে স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির নেতা গাউচ কাজীর বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, অবৈধ বালি উত্তোলন, দখলবাজি ও নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে এলাকায় চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।
জানা গেছে, সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে বিদ্যালয়ে প্রবেশকালে প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ মিরাজুল ইসলামকে পথরোধ করে দাঁড় করানো হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় শতাধিক মানুষের সামনে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, কটুক্তি এবং মারধর করা হয়। এমনকি তাকে হুমকি দিয়ে বলা হয়, তার অনুমতি ব্যতীত ভবিষ্যতে কোনো কার্যক্রম পরিচালনার চেষ্টা করলে এর পরিণাম আরও ভয়াবহ হবে।
একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে প্রধান শিক্ষক মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে বিদ্যালয়ের ভেতরে চলে যান এবং পরে সহকর্মীরা তাকে সান্ত্বনা দেন। এ ঘটনায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দক্ষিণ শৈলদহ এলাকায় মধুমতি নদীর ভয়াবহ ভাঙন চলমান থাকা সত্ত্বেও গাউচ কাজী বালি উত্তোলনকারীদের কাছ থেকে অর্থের বিনিময়ে অবৈধভাবে বালি উত্তোলনে সহযোগিতা করছেন।
এতে নদীভাঙনের ঝুঁকি আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং আশপাশের জনবসতি মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, দক্ষিণ শৈলদহ এলাকার বাসিন্দা আজগার শেখকে পুলিশের ভয় দেখিয়ে ৬ হাজার টাকা আদায় করা হয়েছে।
শুধু তাই নয়, গত ৫ আগস্ট শৈলদাহ ও কাননচক বাজারে ১৫-২০টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাতেও তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগীরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী জানান, ওই ঘটনায় তার প্রায় ২৫ লাখ টাকার মালামাল লুট হয়ে যায়।
অন্যদিকে, এক মুসলিম মেয়েকে জোরপূর্বক এক হিন্দু যুবকের সঙ্গে হিন্দু ধর্মমতে বিয়ে দিতে বাধ্য করা এবং এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পক্ষকে লক্ষাধিক টাকা দিতে বাধ্য করার অভিযোগও উঠেছে গাউচ কাজীর বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, এ কাজে তার সহযোগী হিসেবে টুলু ফকির, প্রদীপ হীরা এবং ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোঃ সাঈদ সেখ জড়িত ছিলেন।
এছাড়া কাননচক এলাকায় গাউচ কাজীর পৃষ্ঠপোষকতায় তার চাচাতো ভাই, সাবেক ছাত্রদল নেতা বাবু কাজীর নেতৃত্বে রমরমা জুয়া ও মাদক ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে এলাকার যুবসমাজ ধ্বংসের মুখে পড়ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
অন্যদিকে শৈলদাহ গুচ্ছগ্রামে আকরাম শেখ নামের এক ব্যক্তিকে ভয়ভীতি দেখিয়ে তার জমি নামমাত্র মূল্যে অন্যদের নামে দলিল করে দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত গাউচ কাজী।
তিনি বলেন, “স্কুলের প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে সামান্য ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল, যা ইতোমধ্যে সমাধান হয়ে গেছে। এছাড়া আমার বিরুদ্ধে আনা অন্যান্য অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন বিশৃঙ্খল আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়। একইসঙ্গে একাধিক গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
Development by: webnewsdesign.com