সিলেট জেলা শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে ভর্তিকৃত প্রশিক্ষণার্থীদের নবীন বরণ এবং চার বছর মেয়াদি কোর্স সমাপনী পরীক্ষা ২০২৫ উত্তীর্ণ প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে সনদপত্র বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বিকেলে নগরীর পূর্ব শাহী ঈদগাহস্থ জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এ উপলক্ষে প্রশিক্ষক, অভিভাবক ও প্রশিক্ষণার্থীদের অংশগ্রহণে অভিভাবক সমাবেশ, গণভোট ২০২৬ সংক্রান্ত অবহিতকরণ সভা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।
একাডেমির কালচারাল অফিসার জ্যোতি সিনহার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে গণভোট ২০২৬ বিষয়ে অবহিতকরণ সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন সিলেট জেলা প্রশাসক ও জেলা শিল্পকলা একাডেমির সভাপতি মো. সারওয়ার আলম। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্র সংস্কারের একটি বড় আকাঙ্ক্ষা জনগণের মধ্যে প্রকাশ পেয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রের সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক জনগণ। রাষ্ট্রে পরিবর্তন আনতে হলে আগে সংবিধান সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে। আগামীর বাংলাদেশকে সংস্কার ও পরিবর্তনের পথে এগিয়ে নিতে চাইলে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে হবে, আর পরিবর্তন না চাইলে ‘না’ ভোট দিতে হবে। দেশের কল্যাণে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব জনগণের।
অবহিতকরণ সভা শেষে প্রশিক্ষক ও প্রশিক্ষণার্থীদের অংশগ্রহণে সংগীত, নৃত্য ও আবৃত্তি পরিবেশিত হয়।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে চার বছর মেয়াদি কোর্স সমাপনী পরীক্ষা ২০২৫ উত্তীর্ণ প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে সনদপত্র তুলে দেন প্রধান অতিথি মো. সারওয়ার আলম। পরে সংগীত, নৃত্য, আবৃত্তি ও চারুকলা বিভাগে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে ভর্তিকৃত নবীন প্রশিক্ষণার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানো হয়। মঞ্চে নতুন শিক্ষার্থীদের হাতে গোলাপ ফুল তুলে দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে অনুভূতি প্রকাশ করে আবৃত্তি বিভাগের নবীন শিক্ষার্থী ও সাউথ এশিয়া রেডিও ক্লাব (সার্ক) বাংলাদেশের শিশু বিষয়ক সম্পাদক লাবীব ইকবাল বলেন, তাঁর বাবার স্বপ্ন ছিল তিনি শিল্পকলা থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে সাংস্কৃতিক বিকাশে যুক্ত হবেন। সেই স্বপ্ন পূরণের পথে আজ তিনি যাত্রা শুরু করলেন বলে জানান তিনি।
এ সময় সাউথ এশিয়া রেডিও ক্লাব (সার্ক) বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও রেডিও এক্টিভিস্ট দিদারুল ইকবাল বলেন, নবীন শিক্ষার্থীদের পদচারণায় সিলেট জেলা শিল্পকলা একাডেমি প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে। শিল্পকলা থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে শিক্ষার্থীরা যেন সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চার মাধ্যমে পরিবার, সমাজ ও দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
Development by: webnewsdesign.com