রাজপথের লড়াকু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল এখন অবহেলিত

নেতৃত্বের সংকটে অস্তিত্বের মুখে ছাত্রদলের ‘সুপার ইউনিট’

সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬ | ৬:৪৩ অপরাহ্ণ

নেতৃত্বের সংকটে অস্তিত্বের মুখে ছাত্রদলের ‘সুপার ইউনিট’
apps

দীর্ঘ ১৬ বছরের দুঃশাসন ও ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে রাজপথের অগ্রভাগের সেনানী হিসেবে পরিচিত জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের অন্যতম শক্তিশালী শাখা ‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল’ বর্তমানে গভীর সাংগঠনিক সংকটে নিমজ্জিত। জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে যে ইউনিটটি ঢাকার রাজপথ প্রকম্পিত করেছিল, সেই ‘সুপার ইউনিট’ খ্যাত শাখাটি এখন মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি ও অভ্যন্তরীণ অবহেলার কারণে তার ঐতিহ্য হারাতে বসেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

​গণঅভ্যুত্থানের সেই সম্মুখ সারির যোদ্ধা
​২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার বিপ্লবের ইতিহাসে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অবদান স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। আন্দোলনের এক পর্যায়ে যখন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বন্ধ করে দিয়ে আন্দোলন দমনের চেষ্টা করা হয়েছিল, ঠিক তখনই ঢাকার রাজপথ আগলে রেখেছিল বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

এই আন্দোলনে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৩৪ জন শিক্ষার্থী শাহাদাত বরণ করেন এবং সহস্রাধিক শিক্ষার্থী পঙ্গুত্ব বরণ করেন। মূলত ছাত্রদলের দীর্ঘ ১৬ বছরের আন্দোলনের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এই শিক্ষার্থীদের একটি বিশাল অংশকে সংগঠিত ও নেতৃত্ব দিয়েছিল বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল।

​সাংগঠনিক স্থবিরতা ও ‘অদৃশ্য’ বাধা
​সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, ১১৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে গঠিত এই বৃহৎ ইউনিটটি বর্তমানে সাংগঠনিকভাবে চরম দুর্বল হয়ে পড়েছে। ক্যাম্পাসে কার্যক্রম চালাতে না পারা এবং জাতীয় রাজনীতিতে এই শিক্ষিত মেধাবী তরুণদের অংশগ্রহণে একটি স্বার্থান্বেষী মহলের বাধা প্রদানের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবি, একটি কুচক্রী মহল পরিকল্পিতভাবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়ার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।
​মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি ও কেন্দ্রীয় অবহেলা

​তথ্যমতে, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের বর্তমান কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে প্রায় দুই বছর আগে। নির্ধারিত সময়ে ধারাবাহিক নেতৃত্ব তৈরি না হওয়ায় শাখাটিতে বড় ধরনের ‘লিডারশিপ ভ্যাকিউম’ বা নেতৃত্বশূন্যতা তৈরি হয়েছে। তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ অন্যান্য প্রায় সব ইউনিটের কমিটি দিলেও এই সুপার ইউনিটটির প্রতি বিমাতাসুলভ আচরণ করছে।

​একাধিক কর্মী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন:
​”যেখানে আমরা গণঅভ্যুত্থানে বুক পেতে দিয়েছিলাম, সেখানে আজ দুই বছর পার হলেও নতুন কমিটি হচ্ছে না। কেন্দ্রীয় সংসদের এই উদাসীনতা আমাদের সাথে চরম অন্যায়ের শামিল। মনে হচ্ছে কোনো অদৃশ্য শক্তি আমাদের মেধাবী নেতৃত্বকে অঙ্কুরেই বিনষ্ট করতে চাইছে।”

​অস্তিত্ব রক্ষার দাবি
​এক সময়ের ‘সূর্যের আলোর মতো’ প্রদীপ্ত এই ইউনিটটি এখন অনেকটা নিভু নিভু মোমবাতির মতো অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে। রাজপথের পরীক্ষিত ও মেধাবী কর্মীরা হতাশ হয়ে রাজনীতি থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন। সাধারণ কর্মীদের দাবি, অবিলম্বে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন ও গতিশীল নেতৃত্ব উপহার দিতে হবে। তারা মনে করেন, যথাযথ মূল্যায়ন পেলে জাতীয় রাজনীতিতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষিত সমাজ এক অনন্য ও বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে সক্ষম।

​ফ্যাসিবাদ বিরোধী লড়াইয়ের এই সম্মুখ সারির যোদ্ধারা এখন প্রহর গুনছেন—কবে কাটবে এই অন্ধকারের জাল আর কবে আবারও পূর্ণ শক্তিতে জেগে উঠবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল।

Development by: webnewsdesign.com