স্মার্টফোনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক অ্যাপ ব্যবহার করে পরীক্ষার উত্তর খোঁজার সময় হাতেনাতে ধরা পড়ে তাৎক্ষণিকভাবে বহিষ্কার (এক্সপেলড) হয়েছেন মো. ফেরদাউস নামের এক শিক্ষার্থী। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল সংসদের নির্বাচিত কার্যনির্বাহী সদস্য।
ঘটনা সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ মে ২০২৬ তারিখে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ১৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. ফেরদাউস ১০৭ নম্বর কোর্সের রিটেক পরীক্ষায় অংশ নেন। সকাল ১০টায় শুরু হওয়া এই পরীক্ষার মাঝপথে, আনুমানিক বেলা ১১টার দিকে তিনি ওয়াশরুমে যাওয়ার কথা বলে পরীক্ষার হল থেকে বের হন। পরে বিভাগের করিডরে একই বিভাগের ১৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সোহরাবের কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন সংগ্রহ করেন।
অভিযোগ রয়েছে, ওই মোবাইল ফোনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক অ্যাপ ‘চ্যাটজিপিটি’ ব্যবহার করে পরীক্ষার প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেন তিনি। এ সময় দায়িত্বরত শিক্ষকরা তাকে হাতেনাতে আটক করেন। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা মোবাইল ফোনের সার্চ হিস্ট্রি পরীক্ষা করে দেখতে পান, পরীক্ষায় আসা প্রশ্নগুলো হুবহু সেখানে অনুসন্ধান করা হয়েছে।নিয়ম লঙ্ঘনের এই অকাট্য প্রমাণের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে পরীক্ষা থেকে বহিষ্কার করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও জানা গেছে, বহিষ্কৃত এই শিক্ষার্থী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল সংসদে শিবির-সমর্থিত প্যানেল থেকে কার্যনির্বাহী সদস্য পদে নির্বাচিত হন। হলের ভেতরে তিনি প্রভাবশালী শিবির নেতা হিসেবেও পরিচিত।
এদিকে, একজন নির্বাচিত ছাত্রনেতার এমন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। ডিজিটাল জালিয়াতির এই ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, এ ঘটনায় সহায়তা করার অভিযোগে অন্য শিক্ষার্থী সোহরাবের বিরুদ্ধেও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত মো. ফেরদাউসের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
Development by: webnewsdesign.com