ঠাকুরগাঁওয়ে রমজান ও পবিত্র ঈদুল ফিতরের আমেজে জমে উঠেছে ঈদের বাজার। প্রতিদিন শহরের মানুষদের পাশাপাশি বিভিন্ন গ্রামাঞ্চল থেকে ক্রেতারা আসছেন মার্কেটে। প্রতিদিন সকাল ৯ টা থেকে রাত ১২ টা বা তার কিছুক্ষন পর সময় পর্যন্ত ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে বিপনী বিতানগুলোতে। বিশেষ করে গার্মেন্টস (কাপড়ের দোকান) গুলোতে ভীড় বেশি। পাশাপাশি জুতা, কসমেটিকস, পাঞ্জাবি, প্যান্টের দোকানসহ বিভিন্ন পন্যের দোকানেও রয়েছে আলাদা ভিড়।
সোমবার ভরদুপুরে পৌর শহরের নর্থ সার্কুলার রোডের ঘোমটা-২, সুপ্রিয় ফ্যাশন, শতরুপা, জ্যান্টস গ্যালারী, ল্যাটেস্ট কালেকশন, লক্সারি হাউজ, বাগদাদ ক্লথ স্টোর, মুবা বস্ত্রালয়, নাঈম গার্মেন্টস, ঘোমটাসহ গার্মেন্টস (কাপড়ের দোকান) এ গিয়ে দেখা যায় ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়। সকাল ৯ টায় ক্রেতা সমাগম হতে শুরু হয়। বেশিরভাগ ক্রেতা গেঞ্জি, শার্ট, পাঞ্জাবী, বিভিন্ন ধরনের প্যান্ট, থ্রি-পিস, শাড়ি, লেহেঙ্গা, উড়না, প্যান্ট পিস, সার্ট পিস ইত্যাদি বেশি কিনছেন। ঘোমটা-২ এ গিয়ে দেখা যায়, নারী-পরুষের বেশ কয়েকটি দল সেখানে ভিড় করে কাপড় কিনছেন। দোকানদারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন পন্যের পসরা সাজিয়ে রাখা হয়েছে। ক্রেতারা সেখান থেকে তাদের প্রয়োজনীয় পন্য ক্রয় করছেন।
ঈদে বাচ্চাদের খুশি করতে মার্কেটে আসা পৌর শহরের টিকাপাড়া মহল্লার গৃহিনী ডলি বলেন, মেয়ের জামা-কাপড়, জুতা কিনতে এসেছি। ঈদের বেশ কিছুদিন বাকি থাকলেও আগে ভাগেই এসেছি, দাম কম পাওয়ার আশায়। মেয়ের জন্য ভালো থ্রি-পিস ও জুতা কিনবেন এবং বেশ কয়েকটি দোকানে ঘুরে পছন্দের জামা ও জুতা কিনেছেন বলে জানান তিনি।
ঘোমটা-২ এ কাপড় কিনতে আসা ক্রেতা পৌর শহরের শাহ্পাড়া মহল্লার জেসমিন আক্তার জানান, বিভিন্ন জিনিসের দামের সাথে সাথেও কাপড়ের দাম কিছুটা বেড়েছে। পাশ্ববর্তী দিনাজপুর জেলায় সাথে ঠাকুরগাঁও জেলার কাপড়ের দামের ব্যবধান কিছুটা বেশি।
নর্থ সাকুলার সড়কের ঘোমটা-২ এ কথা হয় দোকানের কর্মকর্তা জনির সাথে। জনি জানায়, দিন যত বাড়ছে ক্রেতার সমাগম তত বাড়ছে। অনেকেই পন্যের দাম কিছুটা সস্তায় পাওয়ার আশায় আগে-ভাগেই মার্কেটে আসছেন। ক্রেতাদের পক্ষ থেকে দাম বেশির ব্যাপারে তিনি জানান, ঈদ উপলক্ষে বিভিন্ন পোষাকে দাম সামান্য বেশি মনে হতে পারে। তবে ক্রেতা সমাগম ঘটছে প্রচুর। এ বছর বিভিন্ন নামি-দামি থ্রি-পিস, লেহেঙ্গা বিক্রি বেশি। পাশাপাশি দেখছি নারীদের শাড়ি ও ছেলেদের পাঞ্জাবীসহ বিভিন্ন জিনিস বিক্রি হচ্ছে বেশি। তবে এবারে একটি বিষয় লক্ষ্যনীয় থাকছে সেটি হলো ক্রেতারা ম্যাচিং আইটেম কিনছেন বেশি।
জনি আরও জানায়, মেয়েদের বেশিরভাগ কাপড় ক্রেতারা ম্যাচিং করে কিনছেন। ওড়না ২৫০ টাকা থেকে শুরু করে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এ বছর নতুন কালেকশনের মধ্যে রয়েছে কাটা থ্রি-পিস, সারারা-কারারা, আনারকলি, জিমিচু, সাদাবাহার, গুলবাহার, রাখি, পাকিস্তানি বোরিং কাজ করা থ্রি-পিস, লেহেঙ্গা। এর সাথে গত বছরের কিছু কালেকশন যেমন অর্গেঞ্জা, জর্জেট, জিনন, হোয়াইট গোল্ডের মধ্যে নতুন বিভিন্ন কাপড়, সুতি পাকিস্তানি হালকা কাজের মধ্যে, সিল্ক কাপড়ের পাকিস্তানি, কাতান, জারারা, গ্রাউন, লাহিঙ্গা, ডালিসহ বিভিন্ন নামী-বেনামী পোষাকও বিক্রি হচ্ছে প্রচুর। পাশাপাশি বাচ্চাদের কাপড়-চোপড়ও বিক্রি হতে দেখা যায় প্রচুর। যত দিন যাবে এ ভিড় আরও বারবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করছেন ব্যবসায়িরা।
Development by: webnewsdesign.com