এক সময় বাংলাদেশের ঘরে ঘরে পরিচিত নাম ছিলেন সাকিব আল হাসান—জাতীয় দলের অধিনায়ক, বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার, কোটি ভক্তের অনুপ্রেরণা। কিন্তু আজ সেই সাকিব অনেকের চোখে আর নায়ক নন। দ্য ডিপ্লোম্যাটে প্রকাশিত মুবাশার হাসানের নিবন্ধে বলা হয়, রাজনীতি ও বিতর্কে জড়িয়ে তিনি নিজেই নিজের ক্যারিয়ারের সমাপ্তি টেনেছেন।
২০২৩ সালে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে ২০২৪ সালের একতরফা জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থী হন সাকিব। নির্বাচনের পর দেশে-বিদেশে সমালোচনার ঝড় ওঠে। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বর্তমানে তিনিও রয়েছেন নির্বাসনে। সরকার জানিয়েছে, তিনি আর কখনও জাতীয় দলে খেলতে পারবেন না।
এদিকে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সাকিব, তার মা ও আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে শেয়ারবাজার কারসাজি, জালিয়াতি ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে তদন্ত করছে।
২০০৬ সালে জাতীয় দলে অভিষেকের পর প্রায় দুই দশকের ক্যারিয়ারে ১৪,৭৩০ রান ও ৭১২ উইকেট নেওয়া এই ক্রিকেটার ছিলেন বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম সেরা। কিন্তু বিভিন্ন শৃঙ্খলাভঙ্গ ও আইসিসির নিষেধাজ্ঞায় তিনি বারবার বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন।

রাজনীতিতে প্রবেশ ও শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠতা তার পতনের সূচনা করে। যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে শেখ হাসিনার জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানানো পোস্টই যেন চূড়ান্ত করে দেয় তার ক্যারিয়ারের সমাপ্তি।
এক সময়ের জাতীয় গর্ব আজ পরিণত হয়েছেন বিভক্ত মতের প্রতীকে। রাজনৈতিক আনুগত্য ও বাস্তবতা অনুধাবনে ব্যর্থতার কারণেই—নিজ হাতে নিজের ক্রিকেট ক্যারিয়ারের কবর খুঁড়েছেন সাকিব আল হাসান।
সূত্র: দ্য ডিপ্লোম্যাট
Development by: webnewsdesign.com