কবি মোহন রায়হানের জন্মদিন পালন

রবিবার, ০৩ আগস্ট ২০২৫ | ৭:২৩ অপরাহ্ণ

কবি মোহন রায়হানের জন্মদিন পালন
apps

১ আগস্ট ২০২৫। ১৯৫৬ সালের এই দিনে সিরাজগঞ্জের খোকসাবাড়ি ইউনিয়নের খলিসাকুড়া গ্রামের পিতা ফরহাদ হোসেন ও মাতা মাহামুদা খাতুন -এর ঘর আলোকিত করে জন্মগ্রহণ করেছিলো একটি ফুটফুটে সুন্দর শিশু। নাম মোহন রায়হান। গ্রামের শান্ত নির্মল পরিবেশে বেড়ে উঠলেও ছোটবেলা থেকেই তার অন্তরে জন্ম নিয়েছিলো বিপ্লবের এক অগ্নি স্ফুলিঙ্গ। শৈশবেই তিনি অংশ নেন ৬৯ এর গণুভ্যুত্থান, ৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধে। লড়াই সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বেড়ে ওঠা মোহন রায়হান স্বাধীনতা পরবর্তী সকল লড়াই সংগ্রাম আর অধিকার আদায়ের মিছিল মিটিংএ ছিলেন সোচ্চার, ছিলেন অগ্রসেনানি। সামরিক স্বৈরাচার এরশাদ পতনের ডাক দিয়ে গ্রেফতার হয়ে জেলে যান অসংখ্যবার। প্রতিষ্ঠা করেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক ঐক্যজোট, জাতীয় কবিতা পরিষদসহ বিভিন্ন জাতীয় সাংস্কৃতিক সংগঠন। যেগুলো সময়ের দাবিতে দেশের নানা সাংস্কৃতিক আন্দোলন গড়ে তুলেছে, জনমানুষের অধিকার আদায়ে রাজপথ থেকে মন্ত্রণালয় সবখানে থেকে সোচ্চার। ৯০ এর গণভ্যুত্থান থেকে শুরু করে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ঐতিহাসিক জুলাই-২৪ গণভ্যুত্থানেও ছিলেন রাজপথের লড়াইয়ের সম্মুখে। যুগে যুগে তার জ্বালাময়ী বক্তৃতা, অনবদ্য লেখা শক্তি, সাহস ও প্রেরণা যুগিয়েছে লাখ লাখ মানুষের হৃদয়ে। বাংলা সাহিত্যে রেখেছেন অভাবনীয় ভূমিকা। বাংলা সাহিত্যে যুগে যুগে যতজন প্রথিতযশা কবি এসেছেন তার মধ্যে মোহন রায়হান এক উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে জ্বল জ্বল করবে অনন্তকাল ধরে। কবি মোহন রায়হান তার লেখনির মাধ্যমে স্বাধীনতা, সাম্য ও বিপ্লবের কবি হিসেবেই পরিচিত।

কবি মোহন রায়হান -এর ৬৯তম জন্মদিন উপলক্ষে সাওল হার্ট সেন্টার, বাংলাদেশ ও জাতীয় কবিতা পরিষদের যৌথ উদ্যোগে রাজধানীর ২৬ইস্কাটন গার্ডেন রোডের “কাজল মিলনায়তন”-এ এক আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

সাওল হার্ট সেন্টার, বাংলাদেশ -এর সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. ফারহান আহমেদ ইমন -এর সঞ্চালনায়, এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দেশের খ্যাতনামা রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্ব, সাবেক সাংসদ ও বর্তমানে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম মনি, দেশের প্রখ্যাত সাংবাদিক, কবি ও বর্তমানে দৈনিক ‘আমাদের সময়’-এর সম্পাদক আবু সাইদ খান, জাতীয় কবিতা পরিষদের উপদেষ্টা মন্ডলীর অন্যতম সদস্য কবি মতিন বৈরাগী, খ্যাতিমান গীতিকবি ও জাতীয় কবিতা পরিষদের সহসভাপতি কবি শহিদুল্লাহ ফরায়জী, জাতীয় কবিতা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ম. হামিদ, কবি শাহাবুদ্দীন নাগরী।

অনুষ্ঠানে আলোচনা পর্বে বক্তারা প্রত্যেকেই কবি মোহন রায়হানকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন এবং তার মহত্বকে তুলে ধরেন।

আবু সাইদ খান বলেন– আজীবন সংগ্রামী কবি মোহন রায়হান -এর জীবনের প্রতিটা অংশই একেকটা দৃষ্টান্ত। তার কবিতায় ফুটে ওঠে প্রেম, দ্রোহ, সংগ্রাম ও বিপ্লবের প্রতিচ্ছবি।”

নুরুল ইসলাম মনি বলেন– কবি মোহন রায়হান-এর পরিচয় বলতে গেলে বলতে হয়, সব মিলিয়ে তিনি একজন মানুষ যেই মানুষটা সততা, আদর্শে ও পরোপকারীতায় পরিপূর্ণ। সাওল হার্ট সেন্টার প্রতিষ্ঠা করে মানবিকতার অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন। মোহন রায়হান সমাজ পরিবর্তনের জন্য চেষ্টা করেছেন। এই চেষ্টায় তিনি কতটা সফল হলেন তার চাইতেও গুরুত্বপূর্ণ তিনি বহু মানুষকে তৈরি করেছেন এবং নিজে একচুল পরিমানও আদর্শের যায়গা থেকে সরে যাননি।”

রেজাউদ্দিন স্টালিন বলেন– এই তেলমারা জাতিকে তেলমুক্ত করে সার্বিক সুস্থতার গ্যারান্টি দেয়া সাওল হার্ট সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা কেবল মোহন রায়হানই করতে পারেন কারন তিনি তার এর ৬৯ বছরের সংগ্রামি জীবনে সর্বদা আপোষহীন, সৎ ও আদর্শের সঙ্গে থেকেছেন।”

কবি মতিন বৈরাগী বলেন– কবি মোহন রায়হান নজরুলের মতই সবসময় প্রাসঙ্গিক। তিনি ৭০-৮০ দশকের কবি হলেও তার লেখা এখনো লড়াই সংগ্রামে সাহস, শক্তি ও অনুপ্রেরণা দেয়।”

স ম শামসুল আলম বলেন– মাত্র ৫০জন মোহন রায়হান যদি দেশের বিভিন্ন ক্ষমতায় আসিন থাকতো তবে দেশটা উন্নতির চরম শিখরে থাকতো। কেননা, মোহন রায়হান আজীবন আদর্শ, সততা ও আপোষহীনতার আরেক নাম।”

অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন, কবি শিমুল পারভিন, মিশু দাস, রবিন, হৃদিকা, পারহান উদ্দিনসহ সাওল পরিবারের সদস্যবৃন্দ।

Development by: webnewsdesign.com