ইরান যুদ্ধের জন্য অনুমোদনের প্রয়োজন নেই: কংগ্রেসকে ট্রাম্প

শনিবার, ০২ মে ২০২৬ | ১২:১২ অপরাহ্ণ

ইরান যুদ্ধের জন্য অনুমোদনের প্রয়োজন নেই: কংগ্রেসকে ট্রাম্প
apps

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কংগ্রেসকে জানিয়েছেন, চলমান যুদ্ধবিরতির সময় ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের শত্রুতা ‘শেষ’ হয়ে গেছে। আর সে কারণে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে কংগ্রেসের অনুমোদনের নির্ধারিত সময়সীমা মানার প্রয়োজন তার নেই বলে তিনি যুক্তি দিয়েছেন।

আইন অনুযায়ী, সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে কংগ্রেসকে জানানোর ৬০ দিনের মধ্যে প্রেসিডেন্ট কংগ্রেসের অনুমোদন নিতে বাধ্য, অন্যথায় তাকে যুদ্ধের কার্যক্রম বন্ধ করতে হয়। কিন্তু কংগ্রেসের নেতাদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে ট্রাম্প বলেছেন, গত মাসে ইরানের সঙ্গে হওয়া যুদ্ধবিরতির কারণে ওই আইনের বাধ্যবাধকতা তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এখনো আলোচনার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি কোনো শান্তিচুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি, যদিও ইরানের গণমাধ্যম জানিয়েছে, শুক্রবার পাকিস্তানের মাধ্যমে তেহরান থেকে একটি নতুন প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

ইরানের ওপর হামলার বিষয়ে কংগ্রেসকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানোর ৬০তম দিনে শুক্রবার ট্রাম্প কংগ্রেস নেতাদের লিখেছেন, ‘২০২৬ সালের ৭ এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ও ইরানের মধ্যে আর কোনো গুলিবিনিময় হয়নি। ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি যে শত্রুতামূলক কার্যক্রম শুরু হয়েছিল, তা এখন শেষ হয়েছে।’

ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে, আলোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দেওয়ার জন্য তেহরানের নূতন প্রস্তাব পাকিস্তানকে দেওয়া হয়েছে। তবে সংবাদ সংস্থাটি প্রস্তাবটির বিস্তারিত প্রকাশ করেনি।

তবে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘আমরা মাত্রই ইরানের সঙ্গে কথা বলেছি। দেখা যাক কী হয়। তবে আমি বলব, আমি এতে সন্তুষ্ট নই।’ তিনি বলেন, একটি চুক্তিতে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে এবং আংশিকভাবে এর কারণ হলো যুদ্ধে ইরানের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের কয়েকজন নিহত হওয়ায় তাদের নেতৃত্ব ‘খুব বিভ্রান্ত’ অবস্থায় রয়েছে।

ট্রাম্প আরো জানান, বৃহস্পতিবার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড তার সামনে বিভিন্ন বিকল্প উপস্থাপন করেছে। এর মধ্যে ছিল ‘তাদের (ইরানের) ওপর ভয়াবহ হামলা চালিয়ে পুরোপুরি শেষ করে দেওয়া’ থেকে শুরু করে ‘একটি চুক্তিতে পৌঁছানো’ পর্যন্ত।

শুক্রবার ট্রাম্প বলেছেন, ‘তারা আমাদের প্রয়োজন অনুযায়ী চুক্তির দিকে এগোচ্ছে না। আমরা বিষয়টি ঠিকভাবে শেষ করব। আমরা তাড়াহুড়া করে সরে যাব না, যাতে তিন বছর পর আবার একই সমস্যা ফিরে আসে।’

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় একটি সতর্কবার্তা জারি করে বলেছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াতের জন্য ইরানকে কোনো ব্যক্তি বা কোম্পানি যদি ‘টোল’ দেয়, তাহলে তারা মার্কিন নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের ঝুঁকিতে পড়তে পারে।গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ এখনো কার্যত বন্ধ রয়েছে, যার ফলে বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক প্রভাব পড়ছে।

কংগ্রেসে আইন প্রণেতারা ক্রমবর্ধমান প্রশ্নের মুখে পড়েছেন, তারা উভয় কক্ষে ভোটের ব্যবস্থা করবেন কি না, যাতে যুদ্ধটি আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পাবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়।

এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রাসঙ্গিক আইনে প্রেসিডেন্টের ওপর নির্দিষ্ট কিছু বাধ্যবাধকতা আছে। যখন তিনি মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীকে যুদ্ধে ব্যবহার করেন, তখন কংগ্রেসের অনুমোদন নিতে হয় ‘৬০ ক্যালেন্ডার দিনের মধ্যে’।

এই আইনে বলা আছে, কংগ্রেস আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ ঘোষণা না করলে বা সর্বোচ্চ ৩০ দিনের জন্য সময় বাড়ানোর অনুমতি না দিলে প্রেসিডেন্টকে সশস্ত্র বাহিনীর ব্যবহার বন্ধ করতে হবে, যাতে দ্রুত সেনা প্রত্যাহার করা যায়। প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের ভিয়েতনাম যুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে জড়িয়ে থাকার ক্ষমতা সীমিত করার জন্য ১৯৭৩ সালে এই আইনটি পাস করা হয়েছিল।

বৃহস্পতিবার কংগ্রেসের এক শুনানিতে তিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ যুক্তি দেন, আইন প্রণেতাদের অনুমোদন নেওয়ার নির্ধারিত সময়সীমার ‘ঘড়ি’ আপাতত থেমে আছে। এর প্রতিক্রিয়ায় ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর টিম কেইন বলেন, ‘আমি মনে করি না, এই আইনে এমন ব্যাখ্যার সমর্থন পাওয়া যায়।’

কংগ্রেসের উভয় কক্ষেই ট্রাম্পকে ইরান ইস্যুতে সীমাবদ্ধ করার জন্য ডেমোক্র্যাটদের উদ্যোগ বারবার ব্যর্থ হয়েছে। বেশিরভাগ রিপাবলিকান ডেমোক্র্যাটদের এই প্রচেষ্টার বিরোধিতা করেছেন, যদিও কেউ কেউ ইঙ্গিত দিয়েছেন যে ৬০ দিনের সময়সীমা পার হওয়ার পর তারা তাদের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করতে পারেন।

শুক্রবার কংগ্রেসের অনুমোদন নেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘অনেকেই এটাকে সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক বলে মনে করেন।’

ট্রাম্প প্রশাসনের এসব ব্যাখ্যা নিয়ে কিছু বিশেষজ্ঞ প্রশ্ন তুলেছেন। ওয়াশিংটন ডিসির জর্জটাউন ইউনিভার্সিটি ল’-এর অধ্যাপক হেদার ব্র্যান্ডন-স্মিথ বলেন, যুদ্ধবিরতি আইনগতভাবে কার্যকর থাকলেও তা ৬০ দিনের সময়সীমার গণনা থামাবে না।

তিনি বলেন, ‘যুদ্ধবিরতি কোনো স্থায়ীভাবে সংঘাতের সমাপ্তি নয়। আমার মতে, স্থায়ীভাবে সংঘাত শেষ হলেই ৬০ দিনের সময়সীমা সত্যিকার অর্থে শেষ হবে।’ তার মতে, যদি ট্রাম্প প্রশাসন সংঘাত চালিয়ে যায়, তাহলে আদালত বা কংগ্রেসই একমাত্র উপায় হতে পারে যুদ্ধ থামানোর।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর ব্যাপক হামলা চালালে এই সংঘাত শুরু হয়। এতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নিহত হন। এর জবাবে ইরান ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর ওপর হামলা চালায়।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিরুদ্ধে পশ্চিমা দেশগুলোর নেতৃত্ব দিচ্ছে এবং দাবি করছে যে দেশটি পারমাণবিক বোমা তৈরি করতে চাইছে, যদিও তেহরান এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

Development by: webnewsdesign.com