রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গত দুই মাসে হাসপাতালটিতে মোট ৪০ শিশুর প্রাণহানির ঘটনা ঘটল।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে হামের উপসর্গ নিয়ে শিশু ভর্তি শুরু হলেও পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও আক্রান্ত-মৃত্যুর হিসাব আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় ফেব্রুয়ারি থেকে। গত শনিবার (৪ এপ্রিল ২৬) হাসপাতালের মুখপাত্র শংকর কে বিশ্বাস প্রথমবারের মতো দুই মাসে ৩৮ শিশুর মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেন। রোববার (৫ এপ্রিল ২৬) আরও দুই শিশুর মৃত্যু হওয়ায় সংখ্যা দাঁড়ায় ৪০-এ। একই দিনে রাজশাহীর একটি বেসরকারি হাসপাতালেও হামের উপসর্গে আরও তিন শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
এর আগে গত ২৬ মার্চ একটি জাতীয় দৈনিকে ‘আইসিইউর অপেক্ষায় থাকতে থাকতে ১১ দিনে ৩৩ শিশুর মৃত্যু’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি দেশজুড়ে আলোচনায় আসে। ২৮ মার্চ একই পত্রিকায় সংক্রামক রোগীদের সাধারণ রোগীদের সঙ্গে রাখার অভিযোগ নিয়ে আরেকটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওইদিনই এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন শিশু মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সমালোচনা করেন। পরবর্তীতে কর্তৃপক্ষ হামের রোগীদের জন্য আলাদা বিশেষায়িত ওয়ার্ড চালু করেন।
গত ৩১ মার্চ হাসপাতালে পরিদর্শনে এসে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী শিশু মৃত্যুর ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেন। ওইদিন থেকেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে মৃত্যুর তথ্য প্রকাশ শুরু করে। প্রথম দিন জানানো হয়, নমুনা পরীক্ষায় হামের সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়া এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
পরবর্তী সময়ে ধাপে ধাপে মৃত্যুর তথ্য প্রকাশ করা হলেও শনিবার হঠাৎ করেই ফেব্রুয়ারি মোট ৩৮ শিশুর মৃত্যুর তথ্য জানানো হয়। এরপর থেকে প্রতিদিন দুপুরে হালনাগাদ তথ্য গণমাধ্যমে সরবরাহ করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র শংকর কে বিশ্বাস বলেন, আগে তাদের কাছে পূর্ণাঙ্গ তথ্য ছিল না। শনিবার থেকে হামের উপসর্গে মারা যাওয়া সব শিশুর তথ্য একত্র করে প্রকাশ করা হয়েছে। এখন থেকে প্রতিদিনের মৃত্যুর তথ্য এতে যুক্ত করা হবে।
Development by: webnewsdesign.com