চট্টগ্রাম বায়েজিদে সন্ত্রাসীদের বুলেটে নিভে গেল শিশু রেশমীর প্রাণ: ৭ দিন পর হার মানল মৃত্যুঞ্জয়ী লড়াইয়ে

বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬ | ১:১৯ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম বায়েজিদে সন্ত্রাসীদের বুলেটে নিভে গেল শিশু রেশমীর প্রাণ: ৭ দিন পর হার মানল মৃত্যুঞ্জয়ী লড়াইয়ে
apps
​​চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানার রৌফাবাদ এলাকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে আহত ১১ বছরের শিশু রেশমী আক্তার আর নেই। সাত দিন ধরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে আজ বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ১০টায় না ফেরার দেশে চলে গেছে অবুঝ এই শিশুটি।
​হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তসলিম উদ্দিন অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয়ে জানান, “শিশুটির অবস্থা শুরু থেকেই আশঙ্কাজনক ছিল। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি, কিন্তু আজ সকালে সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে।”
​পান কিনতে গিয়েই কাল হলো রেশমীর গত বৃহস্পতিবার রাতে রৌফাবাদ শহীদ মিনার গলিতে যখন সন্ত্রাসীদের বন্দুক গর্জে ওঠে, তখন রেশমী বাসা থেকে বের হয়েছিল স্রেফ পান কিনতে। লক্ষ্যভ্রষ্ট একটি বুলেট বিঁধে যায় তার বাম চোখে। একই ঘটনায় রাজু নামের এক যুবক ঘটনাস্থলেই নিহত হন। রক্তাক্ত অবস্থায় রেশমীকে উদ্ধার করে প্রথমে বেসরকারি হাসপাতালে এবং পরে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।
​এলাকায় শোকের ছায়া, বিচারের দাবি রেশমীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো রৌফাবাদ এলাকায় শোকের মাতম শুরু হয়। যে শিশুটি কয়েকদিন আগেও খেলাধুলায় মেতে থাকত, আজ তার নিথর দেহ নিস্তব্ধ করে দিয়েছে এলাকাবাসীকে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, “অপরাধীদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে কেন সাধারণ শিশুর প্রাণ যাবে? আমরা এর দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।”
​তদন্তের অগ্রগতি ​এ ঘটনায় নিহত রাজুর মায়ের করা মামলায় পুলিশ এখন পর্যন্ত ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। বায়েজিদ বোস্তামী থানা পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার নেপথ্যে থাকা মূল হোতাদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
​অবুঝ এক শিশুর এমন অকাল মৃত্যু আবারও প্রশ্ন তুলে দিল শহরের জননিরাপত্তা নিয়ে। রেশমীর চোখ দিয়ে দেখা পৃথিবীর স্বপ্নগুলো এক নিমিষেই মিলিয়ে গেল সন্ত্রাসীদের নিক্ষিপ্ত বুলেটে।

Development by: webnewsdesign.com