হবিগঞ্জে হত্যা কান্ডের জেরে

প্রতিপক্ষের বাড়ি-ঘর ভাংচুর,গরু ছাগলসহ মূল্যবান জিনিসপত্র লুট, কোটি টাকার ক্ষতি।

বৃহস্পতিবার, ১৩ জানুয়ারি ২০২২ | ৫:০১ অপরাহ্ণ

প্রতিপক্ষের বাড়ি-ঘর ভাংচুর,গরু ছাগলসহ মূল্যবান জিনিসপত্র লুট, কোটি টাকার ক্ষতি।
apps

হবিগঞ্জের সদর উপজেলার লুকড়া ইউনিয়নের পুর্ব ফাদ্রাইল গ্রামে মসজিদের নাম পরিবর্তন নিয়ে বিরোধের জেরধরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আফজাল চৌধুরী (৪০) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছে। এ হত্যাকান্ডের জেরধরে প্রতিপক্ষের বাড়ি-ঘরে ভাংচুরের তান্ডব চালিয়েছে নিহত আফজাল চৌধুরীর স্বজনরা। বুধবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত হামলা ভাংচুর ও লুটপাটের এ তান্ডলীলা চালানো হয় এসময় মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়া হয় প্রায় ২০ থেকে ২৫টি বাড়ি-ঘর ও দালানকোটা লুটপাট করা হয় গরু ছাগল, হাঁস, মুরগি, ফ্রিজ, টিভিসহ মূল্যবান জিনিসপত্র।

খবর পেয়ে এসআই আব্দুর রহিমের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। জানা যায়, পুর্ব ফাদ্রাইল গ্রামে ১৯৮৪ সালে গ্রামবাসীর উদ্যোগে পূর্ব ফান্ডাইল জামে মসজিদ’র প্রতিষ্ঠা হয় এরপর বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি অনুদান ও গ্রামবাসীর সহযোগিতা অব্যাহত থাকে, সম্প্রতি লন্ডন প্রবাসি সাইফুল ইসলাম সেফুল মসজিদটির নাম পরিবর্তন করে তার বাবার নাম ব্যবহার করার চেষ্ঠা করেন। এ নিয়ে একই গ্রামের তাউছ মিয়া ও গাউছ মিয়াসহ তাদের লোকজনের সাথে তাদের বিরোধ সৃষ্টি হয়।

এরই প্রেক্ষিতে (১০-জানুয়ারী সোমবার) রাত ১ টার দিকে ফান্ডাইল গ্রামের পাচপীরের মাজারে ওরস চলাকালে দু’পক্ষ দেশীয় অস্ত্র সস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে ১ জন নিহতসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়। নিহত আফজাল চৌধুরী ওই গ্রামের জামাল উদ্দিন চৌধুরীর পুত্র।

এদিকে, এ হত্যাকান্ডের জেরধরে বুধবার প্রতিপক্ষের পুরুষশূণ্য বাড়ি-ঘরে সেফুল মিয়া, জিলু মিয়া ও লাউছ মিয়ার নেতৃত্বে একদল লোকজন হামলা ভাংচুরের তান্ডবলীলা চালায় এতে প্রায় কোটি টাকার ক্ষত-ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিক ভাবে জানা গেছে।

এসময় সাধন চৌধুরী, শাহাজাহন চৌধুরী, তাউস চৌধুরী, গাউছ চৌধুরী, আওয়াল চৌধুরী, গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী, আবদাল চৌধুরী, জাহির চৌধুরী, সামছুল চৌধুরী, হাজী ইমন চৌধুরী ও কালো চৌধুরীসহ তাদের অন্তত ২০ থেকে ২৫ জনের বাড়ি ঘর-দালানকোটা ভাংচুর করে মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়া হয়। যদিও এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নিহত আফজাল চৌধুরীর ভাই তজল মিয়া চৌধুরী। তিনি বলেন, এমনিতেই আমরা আমাদের ভাইকে হারিয়ে শোকে কাতর তারপর আমাদের অধিকাংশ লোকজন ও আত্মীয় স্বজন আহত হয়ে সিলেটে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

তাই হত্যা মামলার কাউন্টার মামলা দিতেই প্রতিপক্ষরা নিজেরাই এ ঘটনা ঘটিয়েছে তবে সরেজমিনে গিয়ে ভাংচুরকৃত বাড়ি ঘরের কোন পুরুষকেই বাড়িতে পাওয়া যায়নি। এ ব্যাপারে কোর্টস্টেশন পুলিশ ফাড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুর রহিম জানান, খবর পাওয়া মাত্রই আমরা ঘটনাস্থলে যাই গিয়ে দেখি বেশ কিছু বাড়ি ঘর ভাংচুর করা হয়েছে। তবে আমরা সেখানে যাওয়ার পুর্বেই দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায় বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে এছাড়াও হত্যাকান্ডের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোন মামলা হয়নি বলেও জানান তিনি।

Development by: webnewsdesign.com